আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঢাকা:
২০১৩ সালের পর থেকে প্রাকৃতিক গ্যাসের সর্বনিম্ন মজুত নিয়ে আসন্ন কঠিন শীত মৌসুমের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে সমগ্র ইউরোপ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, বর্তমান তীব্র জ্বালানি ঘাটতির ফলে আন্তর্জাতিক গ্যাস বাজারে এই উচ্চ চাপ ও সংকট ২০২৭ সাল পর্যন্ত টানা অব্যাহত থাকতে পারে।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আইইএ জানায়, অক্টোবর মাসের শেষ নাগাদ সমগ্র ইউরোপের প্রাকৃতিক গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলোর মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৭৫ শতাংশ পূর্ণ করা সম্ভব হয়েছে। অথচ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত বাধ্যতামূলক ন্যূনতম লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ শতাংশ, যা এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন মাত্রা।
সংস্থাটির তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক প্রাকৃতিক গ্যাস তরলীকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন আশঙ্কাজনক হারে হ্রাস পাওয়ায় ইউরোপের সরবরাহ চেইনে ব্যাপক বিপর্যয় ঘটেছে।
তাছাড়া বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে দাম আরও কমবে—এই প্রত্যাশায় ইউরোপীয় জ্বালানি ব্যবসায়ীরা সময়মতো এলএনজি আমদানি স্থগিত রেখেছিলেন। পরবর্তীতে আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি বাড়ানোর মরিয়া চেষ্টা চালানো হলেও আগের সেই বিরাট ঘাটতি কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
আইইএ জোরালো সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে, যদি আসন্ন শীতকাল স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত দীর্ঘ বা তীব্র হয়, কিংবা গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্কে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়, তবে সমগ্র ইউরোপ চরম ব্ল্যাকআউট ও অর্থনৈতিক অচলাবস্থার মুখে পড়বে। ফলে বিকল্প জ্বালানি নিশ্চিত করতে দেশগুলোকে এখনই অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির দিকে ঝুঁকতে হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ










