বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় ঢাকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যে ব্যাখ্যা ও তথ্য চাওয়া হয়েছিল, তার জবাব এখনো দেয়নি রিয়াদ। বুধবার (২১ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র শহীদুল করিম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বাংলাদেশি কূটনৈতিক কর্তৃপক্ষকে কোনো কিছু না জানিয়েই গত ১৪ অক্টোবর ওই দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি প্রশাসন।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছিলেন, কোন পরিস্থিতিতে ওই দুই প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে সৌদি সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে আদালতের রায়ের কপি, সুনির্দিষ্ট কোন অপরাধে তাদের এই সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে কেন বিষয়টি অবহিত করা হয়নি—এসব প্রশ্নের জবাব চাওয়া হয়েছে রিয়াদের কাছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পবিত্র মক্কা নগরীর একটি মসজিদের ভেতরে অশালীন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এক বাংলাদেশি পুরুষ ও এক নারীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার বিস্তারিত নথিপত্র ও দাপ্তরিক তথ্য হাতে পাওয়ার পর সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ সরকার। তবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে দেশের মানুষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসমর্থিত পোস্ট দেখে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছাতে এবং যেকোনো ধরনের গুজব ও অপতথ্য থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, সৌদি আরব বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বৈদেশিক শ্রমবাজার। দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যাদের পাঠানো প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে। ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আইনি অধিকার ও নিরাপত্তার বিষয়টি ঢাকা ও রিয়াদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












