বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: অতীতে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে আনুগত্য, দক্ষতা ও রাজনৈতিক বিচক্ষণতার প্রশ্নে নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়েছিল বিএনপিকে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আসন্ন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার চরম সতর্ক অবস্থান নিয়েছে দলটি। দলীয় আনুগত্যের পাশাপাশি দক্ষ, সাহসী, গ্রহণযোগ্য ও রাষ্ট্রনায়কসুলভ কাউকেই দেশের পরবর্তী অভিভাবক হিসেবে বেছে নিতে চায় তারা। আজ রাতে প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই ইস্যুটিই মূল এজেন্ডা হিসেবে থাকছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক ও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয়কে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—দেশ ও দলের প্রতি আনুগত্য, দক্ষতা ও প্রজ্ঞা এবং সাহসিকতা। দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য, অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং বিজ্ঞ একজন ব্যক্তিকেই বেছে নেবে বিএনপি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার ওপর দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির অতীতের অভিজ্ঞতা বেশ মিশ্র। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস সাহসিকতার সঙ্গে সেনা অভ্যুত্থান রুখে দিলেও, পরবর্তী সময়ে ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ ও ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে নিয়ে বিএনপিকে চরম খেসারত দিতে হয়েছে। ড. ইয়াজউদ্দিনের দলীয় আনুগত্য থাকলেও রাজনৈতিক অদক্ষতার কারণে দেশে ‘এক-এগারো’র (১/১১) সরকার আসে। অন্যদিকে, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর দক্ষতা ও সাহস থাকলেও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে যথাযথ সম্মান না দেখানোসহ নানা কারণে দলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন। শুধু দলীয় আনুগত্য যে সবসময় কাজে আসে না, সেটি এসব ঘটনা থেকেই প্রমাণিত।
বিশেষজ্ঞরাও রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় বৃত্তের বাইরের যোগ্য ব্যক্তিকে আনার তাগিদ দিয়েছেন। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান নাগরিক। তাই নিছক দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে একজন সৎ, মর্যাদাসম্পন্ন, সর্বজনগ্রাহ্য এবং অন্ধ বাধ্যবাধকতাহীন কাউকেই এই পদে বসানো উচিত, যিনি সত্যিকার অর্থেই দেশের অভিভাবক হতে পারবেন।
আগামী সেপ্টেম্বরের সংসদ অধিবেশনেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের এই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে ক্ষমতাসীন দল হিসেবে বিএনপির রাজনৈতিক পরিপক্বতার একটি বড় পরীক্ষা। তাই সবদিক বিচার-বিশ্লেষণ করে কোনো ধরনের বিতর্কের জন্ম না দিয়েই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে চায় দলটি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












