আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: চাঁদে স্থায়ী মানববসতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে নিজেদের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা। রোবটচালিত যানবাহনের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৫৯ কোটি ডলারের নতুন চুক্তি দিয়েছে সংস্থাটি।
নাসার চন্দ্রঘাঁটি কর্মসূচির নির্বাহী কর্মকর্তা কার্লোস গার্সিয়া গালান জানিয়েছেন, ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলমান ‘ফেজ-১’ কর্মসূচির লক্ষ্য হলো চাঁদে অবকাঠামো তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে মানব মহাকাশচারীদের কাজের ও বসবাসের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। নাসার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০-এর দশকে চাঁদে ‘আধা-স্থায়ী’ বসতি স্থাপন করা হবে, যেখানে মহাকাশচারীরা বসবাস ও গবেষণা করতে পারবেন।
নাসা অ্যাস্ট্রোবোটিক, ফায়ায়ফ্লাই অ্যারোস্পেস এবং ইনটুইটিভ মেশিনস—এই তিন প্রতিষ্ঠানকে চারটি মিশনের দায়িত্ব দিয়েছে। এই মিশনের মাধ্যমে চাঁদে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, রোভার এবং অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এছাড়া মঙ্গল অভিযানে ব্যবহৃত ‘প্রমিজ’ রোভারকে চন্দ্র অভিযানের উপযোগী করার চিন্তাভাবনাও করছে নাসা।
মহাকাশ প্রযুক্তি ও অভিযানে চীনের দ্রুত অগ্রযাত্রাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। চীনের মহাকাশ কর্মসূচির ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে নাসা এই বিশাল বিনিয়োগ করছে।
এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে কিছু প্রযুক্তিগত বাধা দেখা দিয়েছে। গত মে মাসে জেফ বেজোসের ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেট উৎক্ষেপণ স্থলেই বিস্ফোরিত হয়, যা মিশনকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। যদিও নাসা জানিয়েছে, কোনো বেসরকারি সহযোগীর মিশন পিছিয়ে গেলে বিকল্প রকেট বা উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। তবে স্পেসএক্স-এর স্টারশিপ রকেট এবং ফায়ারফ্লাই অ্যারোস্পেসের সফল চন্দ্রাভিযান নাসার হাতে বিকল্প পথের সুযোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাসার এই চন্দ্রঘাঁটি মূলত তাদের বৃহত্তর ‘আর্টেমিস’ কর্মসূচির অংশ। এখন পর্যন্ত আর্টেমিস কর্মসূচির পেছনে প্রায় ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে এবং পুরো চন্দ্রঘাঁটি প্রকল্পের আনুমানিক বাজেট দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার কোটি ডলারে। পাঁচ দশকের বেশি সময় পর আবারও মানুষকে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করানোর ঐতিহাসিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




