আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসা ও আয়ের নতুন হিসাব প্রকাশ পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার বাধ্যতামূলক বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি-সংক্রান্ত ব্যবসা থেকেই ট্রাম্প আয় করেছেন ১০০ কোটি ডলারের বেশি। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত ৯২৭ পৃষ্ঠার এই বিশদ প্রতিবেদনে তার সম্পদের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির তথ্য উঠে এসেছে।
ট্রাম্পের আয়ের বড় অংশ এসেছে ক্রিপ্টো খাত থেকে। এর মধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন আগে চালু করা ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’ থেকে রয়্যালটি হিসেবে তিনি আয় করেছেন ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এছাড়া তার ছেলে ও সহযোগী স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল’ থেকে তিনি আয় করেছেন ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি।
মার-এ-লাগো ক্লাব থেকে ৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, ট্রাম্প ন্যাশনাল ডোরাল মায়ামি গলফ ক্লাব থেকে ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার এবং অন্যান্য গলফ ক্লাব থেকে কয়েক কোটি ডলার আয় করেছেন তিনি।
ঘড়ি বিক্রি থেকে ৪৭ লাখ ডলার রয়্যালটির পাশাপাশি বাইবেল, জুতো, সুগন্ধি ও গিটার থেকেও ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য আয় হয়েছে।
বিভিন্ন মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের (এবিসি, সিবিএস, মেটা, ইউটিউব, এক্স) বিরুদ্ধে করা মামলা নিষ্পত্তি থেকে তিনি পেয়েছেন ৮ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই অর্থের বড় অংশ প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ও পার্ক রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় করা হবে।
ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প নিজের আয়ের হিসাব দিয়েছেন। তিনি তার ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রের লাইসেন্স চুক্তি থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং এনএফটি (NFT) বিক্রি থেকে ৬০ লাখ ডলার আয় করেছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে আয়ের স্বচ্ছতা ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে ওঠা বিতর্ক প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, ট্রাম্প তার সব ব্যবসা ছেলেদের পরিচালিত ট্রাস্টের হাতে ছেড়ে দিয়েছেন। উপ-প্রেস সচিব আনা কেলি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ক্রিপ্টো রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলছেন। তিনি বা তার পরিবার কখনো স্বার্থের সংঘাতে জড়াননি।’ বিরোধীদের অভিযোগকে তিনি ‘পুরোনো ডেমোক্র্যাট ও মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার মিথ্যা প্রচারণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালে ছিল ২৩৩ কোটি ডলার। ব্লুমবার্গের হিসাবে এই সম্পদের পরিমাণ আরও বেশি, প্রায় ৭৬০ কোটি ডলার। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফেরার পর ট্রাম্প ক্রিপ্টো শিল্পের প্রতি অত্যন্ত সহায়ক নীতি গ্রহণ করেছেন এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নীতি নমনীয় করেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পূর্বসূরি জো বাইডেনের ১১ পৃষ্ঠার আর্থিক প্রতিবেদনের তুলনায় ট্রাম্পের ৯০০ পৃষ্ঠারও বেশি এই বিস্তারিত প্রতিবেদন তার বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্যের পরিধিই প্রকাশ করে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



