আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপের দেশ স্পেনে প্রবেশের আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন হাজারো অভিবাসী। গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ভাসমান টিউবের সাহায্যে এবং সাঁতরে সীমান্ত পার হওয়ার এক বিশাল ঢল নেমেছে। এই সীমান্ত অতিক্রম করার সময় হুড়োহুড়িতে পদদলিত হয়ে অন্তত ৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রতিবেশী মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের ছিটমহল সেউতায় অনুপ্রবেশ করেছেন। সীমান্ত পেরোনোর এই উন্মাদনায় পদদলিত হয়ে প্রাণহানির ওই ঘটনা ঘটে। সেউতার স্থানীয় সরকার জানিয়েছে, গত দশ দিনে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার অভিবাসী এই অঞ্চলে ঢুকে পড়েছেন এবং এই সময়ের মধ্যেই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। সবশেষ বৃহস্পতিবারও কয়েকশ মানুষ সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
এমন সংকটজনক পরিস্থিতির মুখে সেউতার আঞ্চলিক প্রেসিডেন্ট জেসুস ভিভাস বিষয়টিকে ‘চরম মানবিক ও সামাজিক জরুরি অবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনি স্পেনের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সেনা পাঠানোর জোর দাবি জানিয়েছেন। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির এই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, অভিবাসন সমস্যার জন্য এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারের পক্ষ থেকে বাড়তি সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সীমান্ত প্রহরার কাজে সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ সদস্যকে সেখানে পাঠানো হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সেউতায় ঢোকার পর অনেক অভিবাসী উচ্ছ্বাসে ‘ভিভা এস্পানা!’ (স্পেন দীর্ঘজীবী হোক) স্লোগান দিচ্ছেন। এদের একটি বড় অংশই মরক্কো থেকে বাতাস ভরা নৌকায় চড়ে সমুদ্রপথে এসেছেন। বার্তা সংস্থা এপি জানায়, অনেককে বাঁধের পাশ দিয়ে হেঁটে শহরের রাস্তায় উঠে আসতে দেখা গেছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইএফই-এর মতে, অনেকেই আবার সরাসরি কাঁটাতারের বেড়া টপকে স্থলপথে ঢুকে পড়েছেন।
এ বিষয়ে অভিবাসন অধিকারকর্মী জাকারিয়া জারোকি রয়টার্সকে জানান, হঠাৎ করে অভিবাসীদের এই ঢল ২০২১ সালের মে মাসের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রায় ১০ হাজার মরক্কান এবং সাব-সাহারান যুবক এই অঞ্চলে ঢুকে পড়েছিল। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একেবারেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এখনও সীমান্ত পার হওয়ার আশায় মরক্কোর ফনিদেক শহরে অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন।
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের যে দুটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল রয়েছে, সেউতা তার একটি। সেউতা এবং মেলিলা শহর দুটিই আফ্রিকার বুকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত। ফলে ইউরোপে প্রবেশের আশায় এই দুই সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা সবসময়ই বেশি থাকে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে স্পেনের সুপ্রিম কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, সেউতা বা মেলিলার সমুদ্রসীমায় ধরা পড়া অভিবাসীদের জোর করে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। স্পেনের সিভিল গার্ডের একজন মুখপাত্র জানান, ওই রায়ের পর থেকেই অভিবাসীদের আসার প্রবণতা ধীরগতিতে বাড়ছিল, যা আজ রীতিমতো বিস্ফোরণের রূপ নিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, মানব পাচারকারীরা সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে পুঁজি করেই অবৈধ অভিবাসনকে উসকে দিচ্ছে। তবে এই আকস্মিক সংকট কাটাতে তারা মরক্কো সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









