লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: সুস্থতার জন্য সবার আগে পরিবর্তন আনতে হবে আপনার জীবনযাপনে। কারণ আমরা যা খাই এবং যেভাবে চলি, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের শরীরে। আপনি যখন নিয়ম মেনে সঠিক কাজগুলো করবেন এবং পুষ্টিকর খাবার খাবেন, তখন শরীর ভেতর থেকেই সুস্থ হয়ে উঠবে। অন্যদিকে, শরীরের কথা না ভেবে অস্বাস্থ্যকর খাবার ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন বেছে নিলে অসুস্থ হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। তাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা নিশ্চিত করতে প্রতিদিনের জীবনে কিছু মৌলিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি—
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: প্রতিদিনের প্লেটে ভারসাম্য আনুন। শাকসবজি, ফল এবং চর্বিহীন প্রোটিনসহ সম্পূর্ণ খাবারের ওপর মনোযোগ দিন। প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার গ্রহণ সীমিত করুন। স্যাচুরেটেড ফ্যাট (যেমন- মাখন, প্রাণিজ চর্বি) এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট বেছে নিন। শরীর আর্দ্র রাখতে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন, বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরপরই এক গ্লাস পানি পানের অভ্যাস গড়ুন। খাবার খাওয়ার সময় ধীরে ধীরে খান, পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করুন এবং গভীর রাতে ভারী খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলুন।
শারীরিক কার্যকলাপ: সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই। হাঁটা, সাইকেল চালানোর মতো অ্যারোবিক অ্যাক্টিভিটি এবং স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। এক জায়গায় টানা বসে থাকার অভ্যাস বদলে ২০-৩০ মিনিট পরপর ছোট ছোট কার্যকলাপের মাধ্যমে শরীরের নড়াচড়া বাড়ান। দৈনন্দিন জীবনে লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা বা অল্প দূরত্বে গাড়ির পরিবর্তে হাঁটার মতো ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তুলুন।
ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্য ও প্রতিরোধমূলক অভ্যাস: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার রুটিন তৈরি করুন। শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য রাতে ৭-৯ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ঘুমের মান উন্নত করতে ঘুমানোর আগে মোবাইল বা ডিভাইসের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনুন। মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে মননশীলতা (মাইন্ডফুলনেস) অনুশীলন করুন বা নিজের পছন্দের শখের জন্য সময় বের করুন। এছাড়া সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য, ধূমপান ও ভ্যাপিং সম্পূর্ণ পরিহার করুন। রোগ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং ঘন ঘন হাত ধোয়াসহ ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলুন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






