বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে (গেজেটেড কর্মকর্তা) উন্নীত করার প্রজ্ঞাপন জারির ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও সে অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না তাঁরা। বেতন নির্ধারণ বা ফিক্সেশনের কাজ শুরু না হওয়ায় বাধ্য হয়ে আগের গ্রেড অনুযায়ীই তাদের বেতন নিতে হচ্ছে। প্রধান শিক্ষকদের অভিযোগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের কার্যালয়ের দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ শুরু না হলে তারা সর্বাত্মক অবস্থান কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেন জানিয়েছেন, রোববার (আজ) চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসারের সঙ্গে বসে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তার পদমর্যাদা দেওয়া হলেও তাদের গ্রেড ছিল ১১ ও ১২তম। পরবর্তীতে ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের মার্চে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর গত ডিসেম্বরে সবার বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ ছায়িদ উল্লা জানান, ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নবম পে-স্কেলের বেতন নির্ধারণের আগে ১০ম গ্রেডের ফিক্সেশন সম্পন্ন না হলে প্রধান শিক্ষকেরা সীমাহীন আর্থিক ক্ষতির ও বৈষম্যের শিকার হবেন।
এদিকে, প্রধান শিক্ষকদের পাশাপাশি সহকারী শিক্ষকদের বেতন ১৩তম থেকে ১১তম গ্রেডে উন্নীত করার প্রস্তাবটিও দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এই প্রস্তাবটি জাতীয় বেতন কমিশন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও অর্থ বিভাগে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি নেই। এটি বাস্তবায়িত হলে বছরে সরকারের প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে। তবে সহকারী শিক্ষকদের জন্য আশার খবর হলো, আইনি জটিলতা কেটে যাওয়ায় বর্তমানে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






