বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: সামুদ্রিক পরিবেশ সংরক্ষণ, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা এবং নিরাপদ ও টেকসই সামুদ্রিক বাণিজ্য নিশ্চিত করতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক দায়বদ্ধতা (ম্যারিটাইম লাইয়াবিলিটি) কনভেনশনে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। রোববার লন্ডনে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার (আইএমও) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আইএমওর মহাসচিব আরসেনিও ডোমিঙ্গেজের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের দলিল (ইনস্ট্রুমেন্টস অব অ্যাকসেশন) হস্তান্তর করেন। সোমবার (৬ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ যে তিনটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে যোগ দিয়েছে সেগুলো হলো- আন্তর্জাতিক তেল দূষণজনিত ক্ষতির দায়বদ্ধতা বিষয়ক ১৯৯২ প্রোটোকল (সিএলসি প্রোটোকল), বাঙ্কার তেল দূষণজনিত ক্ষতির দায়বদ্ধতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশন ২০০১ (বাঙ্কার কনভেনশন) এবং নাইরোবি আন্তর্জাতিক রেক অপসারণ কনভেনশন ২০০৭ (রেক রিমুভাল কনভেনশন)। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিদিন শত শত জাহাজ বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে বা দেশের বন্দরে আসে। এসব নৌযান থেকে তেল নিঃসরণ বা জাহাজডুবির মতো দুর্ঘটনায় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের যে ক্ষতি হয়, নতুন এই কনভেনশনগুলো তার দায় নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক বিমা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পথ সুগম করবে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, এই উদ্যোগ দেশের জন্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধাও বয়ে আনবে। এখন থেকে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজগুলোকে আর বিদেশি নৌ প্রশাসনের কাছ থেকে কনভেনশন সনদ সংগ্রহ করতে হবে না। এতে সময় ও বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চার্টারার, বিমা প্রতিষ্ঠান ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশের জাহাজের গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়বে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ একটি দায়িত্বশীল সামুদ্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






