আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আফ্রিকার দেশ সুদানে চলমান সংঘাতে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই অন্তত ৩৩০ শিশু নিহত কিংবা আহত হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, সুদানের সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মাঝে চলমান এ সংঘাতে দেশটি শিশুদের জন্য দিন দিন আরও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে। ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুদানজুড়ে শিশুরা এমন এক যুদ্ধের নির্মম শিকার হচ্ছে, যা দিন দিন আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, দারফুর এবং কার্দোফান রাজ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু হতাহতের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে উত্তর কার্দোফানের রাজধানী আল-উবাইদ ও এর আশপাশের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে চরম উদ্বেগজনক। গত মে মাস থেকে এ রাজ্যে ড্রোন ও অন্যান্য হামলায় অন্তত ১৮ শিশু নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছে। সুদানে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, “অধিকাংশ শিশুর জন্য এখন আর কোনো নিরাপদ জায়গা অবশিষ্ট নেই। সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি আর চরম বঞ্চনার এক অন্তহীন চক্রে আটকে পড়েছে তারা।” ঘরে, রাস্তায়, বাজারে, এমনকি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে গিয়েও শিশুরা হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ক্রমাগত বোমাবর্ষণ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে শিশুদের মনে গভীর ভয় ও মানসিক ট্রমা তৈরি হচ্ছে। চলমান সংঘাতে জোরপূর্বক যুদ্ধে জড়ানো, অপহরণ, যৌন সহিংসতা এবং স্কুল ও হাসপাতালে হামলার মতো মারাত্মক সব অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছে শিশুরা। এদিকে আল-উবাইদ শহরে আরএসএফের হামলা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) সতর্ক করে বলেছে, শহরটির পরিণতি ২০২৫ সালে আরএসএফের দখলে যাওয়া উত্তর দারফুরের রাজধানী আল-ফাশিরের মতো ভয়াবহ হতে পারে। উল্লেখ্য, সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীর ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি এবং প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




