বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে নতুন বিধি যুক্তের উদ্যোগ থেকে শেষ পর্যন্ত সরে এসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থীদের ‘অঙ্গীকারনামা’ দেওয়ার যে বিধান যুক্তের প্রস্তাব ইসির কর্মকর্তারা করেছিলেন, সেটি বাদ দিয়েই আচরণ বিধিমালার খসড়া অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
এর ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশ নিতে আর কোনো আইনি বা আচরণবিধিগত বাধা থাকছে না।
শুধু ইউনিয়ন পরিষদই নয়; একইভাবে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়াও অনুমোদন করেছে ইসি। বুধবার (১০ জুন) এসব নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়া রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দলগুলোকে তাদের মতামত পাঠাতে অনুরোধ জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অঙ্গীকারনামা থেকে সরে আসার কারণ জানা গেছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা এবং আচরণ বিধিমালায় সংশোধনী এনেছিল ইসি। ওই নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীকে অঙ্গীকারনামায় সই করার বিধান যুক্ত করা হয়। একইভাবে ইউপি নির্বাচনের আচরণ বিধিমালার খসড়াতেও এটি যুক্ত করার প্রস্তাব ছিল। তবে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ইসি এই উদ্যোগ থেকে সরে আসে।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন মূলত নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনটি নির্দলীয় হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই শেষ পর্যন্ত আচরণ বিধিমালায় ওই অঙ্গীকারনামা যুক্ত করেনি কমিশন।
নতুন আচরণ বিধিমালার উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:
পোস্টার নিষিদ্ধ: খসড়া আচরণ বিধিমালায় নির্বাচনে কাগজের পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিকল্প প্রচার: প্রার্থীরা বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন।
যানবাহনে প্রচার: ক্যারাভ্যান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে প্রচার চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মাইকিংয়ের সময়সীমা: দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মাইক ব্যবহার করে প্রচার চালানো যাবে।
প্রার্থিতা বাতিল: আচরণ বিধিমালায় প্রার্থিতা বাতিলের কঠোর বিধান যুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে ইসি চাইলে যেকোনো প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






