বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের জনপ্রিয় ইসলামি আলোচক ও চিকিৎসকদের কণ্ঠ নকল করে যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রির এক বিশাল প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী ও ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় ৩ টন সমপরিমাণ অবৈধ যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করা হয়। আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ।
পুলিশ জানায়, চক্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মিজানুর রহমান আজহারী, ডা. জাকির নায়েক, ড. জাহাঙ্গীর কবির ও ডা. তাসনিম জারার মতো জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বদের কণ্ঠ ও ভিডিও নিখুঁতভাবে নকল করত। এরপর সেসব ভুয়া কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করত এবং তাদের কাছে নিম্নমানের যৌন উত্তেজক ওষুধ বিক্রি করত। পুলিশ এই অভিনব কৌশলকে ‘অত্যাধুনিক প্রতারণা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি বাসা থেকে মূলত কল সেন্টার ও এই অবৈধ ব্যবসার বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালিত হতো। গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনের বয়স ১৯ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। চক্রটির মূল হোতা সারাফাত হোসেন প্রযুক্তি ও ওয়েব ডিজাইনে দক্ষ এবং অপর সদস্য শাফায়েত হোসেন শুভ এআই ব্যবহার করে এসব ভুয়া কনটেন্ট বা বিজ্ঞাপন তৈরি করতেন।
তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি চট্টগ্রাম থেকে প্রচারণা ও কল সেন্টারের কাজ পরিচালনা করলেও পণ্য সরবরাহ করা হতো ঢাকার মোহাম্মদপুরের গোডাউন থেকে। পাঠাও ও স্টিডফাস্ট কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে সারা দেশে এসব ভুয়া ওষুধ পাঠানো হতো। অভিযানকালে মোহাম্মদপুরের ওই গোডাউন থেকেই ৩ টন ওষুধ এবং প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১১টি ল্যাপটপ, ১৩টি স্মার্টফোন, ৩৪টি ফিচার ফোন ও ২১টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মিজানুর রহমান আজহারীর এক প্রতিনিধি বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ডিসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, এই বিশাল নেটওয়ার্কের অন্যান্য সদস্য ও গোডাউন শনাক্তের পাশাপাশি ভুয়া ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটগুলো বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





