বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতরে ত্রিপলের ছাউনি দিয়ে তৈরি অস্থায়ী নামাজের জায়গাসহ সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে বুলডোজার দিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। উদ্যানের ভেতরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে।
পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উদ্যানের ভেতরে আগে থেকেই একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ রয়েছে। তা সত্ত্বেও একটি মহল ও কিছু বহিরাগত ব্যক্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে উদ্যানের ভেতরে ত্রিপল টানিয়ে অবৈধভাবে নামাজের স্থান বানিয়ে দিনরাত অবস্থান করছিল।
গত বৃহস্পতিবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এসব অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়। পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী, রোববার দুপুরের পরপরই বুলডোজার নিয়ে মাঠে নামে কর্তৃপক্ষ এবং অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার কাজ শুরু করে।
রমনা গণপূর্ত উপ-বিভাগ-৩ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর দাখিল করা প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে উদ্যানের মন্দিরের গেট বরাবর কিছু অবৈধ দোকানপাট স্থাপন এবং এম্পিথিয়েটার সংলগ্ন স্থান জুড়ে অস্থায়ী নামাজের স্থান নির্মাণের নামে জায়গা দখল।
এছাড়া উদ্যানের ভেতরে থাকা বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শেষের পথে থাকার সুযোগ নিয়ে কিছু বিপথগামী লোক যেমন—নেশাখোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী, যৌনকর্মী ও ভাসমান ভবঘুরে নিরাপত্তা প্রহরীদের অগোচরে অবস্থান নিয়ে উদ্যানের সার্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে। এতে দর্শনার্থীরা প্রায়শই ছিনতাই ও হেনস্থার শিকার হচ্ছেন। অবৈধ দখলদারদের বারবার স্থান ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হলেও তারা উল্টো গণপূর্ত উপ-বিভাগের কর্মচারী ও আনসার বাহিনীর সাথে রূঢ় আচরণ এবং হুমকি-ধমকি প্রদর্শন করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সরকারি সম্পত্তি রক্ষা এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাধারণ মানুষের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে ১১ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে আহ্বায়ক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রতিনিধিকে সদস্য সচিব করে গঠিত এই কমিটিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরাও রয়েছেন। পরিস্থিতি অতি জরুরি বিবেচনা করে পুলিশ, সিটি করপোরেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে উচ্ছেদ অভিযানের নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছিল।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









