আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় আফগান সেনাবাহিনী যে হামলা চালিয়েছে, তা ইসলামিক স্টেটের আফগান শাখা ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ (আইএস-কে)-এর ঘাঁটি লক্ষ্য করে পরিচালনা করা হয়েছিল বলে দাবি করেছে কাবুলে ক্ষমতাসীন তালেবান সরকার। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আজ বুধবার তোলো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
তালেবান সরকারের দাবি, মঙ্গলবারের এই অভিযানটি ছিল ‘গোছানো ও নির্ভুল’। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া এলাকায় থাকা এসব ঘাঁটি আফগানিস্তানের ভেতরে নাশকতা ও বেসামরিক মানুষ হত্যার জন্য ব্যবহার করা হতো। অভিযানে বেশ কয়েকজন আইএস-কে জঙ্গি নিহত হয়েছে এবং কোনো বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেনি বলে তারা নিশ্চিত করেছে।
দুই দেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন (রোববার) আফগানিস্তানের পাকতিয়া, পাকতিকা ও কুনার প্রদেশে বিমান অভিযান পরিচালনা করেছিল পাকিস্তান। তালেবান সরকারের তথ্যমতে, পাকিস্তানের সেই ‘কাপুরুষোচিত’ ও ‘নৃশংস’ অভিযানে ৩৬ জন নিহত ও ১৬০ জন আহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তান দাবি করেছে, ওই অভিযানে তাদের নিষিদ্ধঘোষিত গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর ২৯ জন সদস্য নিহত হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের অভিযোগ, টিটিপিকে আফগান তালেবান সরকার সব ধরনের সহযোগিতা দিচ্ছে, যা দেশটিতে সন্ত্রাসবাদ উসকে দিচ্ছে। যদিও তালেবান সরকার বরাবরই এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে গত কয়েক বছরে টিটিপি ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিক্ত সম্পর্ক চরমে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বেড়েছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি খাইবার পাখতুনখোয়া সীমান্ত এলাকায় আফগান সেনাবাহিনীর হামলায় বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা নিহত ও কয়েকজন অপহৃত হওয়ার পর পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ নামে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেয়। রোববার পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলাটি ওই অভিযানেরই অংশ বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার।
বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবারের এই হামলা মূলত রোববারের বিমান অভিযানের একটি বড় ধরনের পাল্টা জবাব, যা দুই দেশের মধ্যকার বিদ্যমান সংকটকে আরও গভীর করে তুলল।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






