লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: বিশেষজ্ঞরা গর্ভাবস্থায় হবু মায়ের খাবারের তালিকায় নিয়মিত মৌসুমি ফল রাখার পরামর্শ দেন। এ সময় মায়ের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি গর্ভস্থ শিশুর গঠন ও বৃদ্ধির দিকে মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তাই দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারের পাশপাশি ফলমূল রাখাও অত্যাবশ্যক। চলুন জেনে নেওয়া যাক, গর্ভাবস্থায় কোন ফলগুলো সবচেয়ে বেশি উপকারী এবং এ সময় কী কী সতর্কতা মেনে চলা উচিত।
উপকারী ফল ও এর পুষ্টিগুণ গর্ভাবস্থায় শরীরের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ফলের রয়েছে নিজস্ব উপকারিতা:
তরমুজ ও বাঙ্গি: এসব ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় তা শরীরকে আর্দ্র বা হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।
আপেল: ফাইবার ও আয়রনের একটি চমৎকার উৎস, যা হজমে সাহায্য করে।
টকজাতীয় ফল ও পেয়ারা: কিউই, লেবু, পীচ, প্লাম ও পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি শরীরকে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে।
কলা: যেসব নারী গর্ভাবস্থায় পায়ের পেশিতে টান বা ক্র্যাম্পের সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য কলা দারুণ উপকারী।
আম: আমে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন এ এবং সি পাওয়া যায়।
অ্যাভোকাডো: ফাইবার এবং ভালো ফ্যাটের (Good Fat) জন্য অ্যাভোকাডো বিশেষভাবে সহায়ক।
আয়রন-সমৃদ্ধ ফল: যারা রেস্টলেস লেগ সিনড্রোমে (Restless Leg Syndrome) ভুগছেন, তাদের জন্য আয়রন-সমৃদ্ধ ফল ও খাবার বেশ উপকারী।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ও সতর্কতা গর্ভাবস্থায় ফলের পরিমাণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত নারীদের জন্য। আম, তরমুজ, কলা, আঙুর এবং সফেদার মতো চিনি-সমৃদ্ধ ফল রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই আপনার যদি গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকে, তবে কী পরিমাণে এসব ফল খাওয়া যাবে সে বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
হবু মাকে সারা দিন ধরে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পর্যবেক্ষণ করতে হতে পারে।
প্রতিটি ভারী খাবারের পর ১০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে দারুণ কাজ করে।
চিকিৎসকদের মতে, গর্ভাবস্থায় প্রতিদিন ২ থেকে ৩ বার পরিমিত পরিমাণে ফল খাওয়াই সর্বোত্তম।
পেঁপে ও আনারস নিয়ে বিভ্রান্তি গর্ভাবস্থায় পেঁপে এবং আনারস খাওয়া নিয়ে সমাজে অনেক বিভ্রান্তি রয়েছে। গর্ভপাতের ভয়ে অনেক নারীই এই ফলগুলো পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন। তবে পরিবার বা সোশ্যাল মিডিয়া থেকে পাওয়া খাদ্য-সংক্রান্ত পরামর্শ অন্ধভাবে অনুসরণ না করে আপনার স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের (Gynecologist) সঙ্গে ব্যক্তিগত খাদ্যাভ্যাস নিয়ে আলোচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












