বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে যেন আগুন লেগেছে। কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে মাছের বাজার—কোথাও নেই সাধারণ মানুষের স্বস্তি। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভোক্তারা। রাজনৈতিক পালাবদল বা নির্বাচনের আগে বাজারে স্বস্তি ফেরানোর নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও, বাস্তব চিত্র একেবারেই ভিন্ন। হতাশ ও ক্ষুব্ধ ভোক্তাদের আক্ষেপ, সবাই আশা দেখিয়ে ক্ষমতায় আসে, কিন্তু কম দামে পণ্য দেয় না কেউ।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাল, ডাল, সবজি, মাছ থেকে শুরু করে প্রায় সব নিত্যপণ্যের দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
সবজির বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের রীতিমতো ঘাম ছুটছে। বেশির ভাগ সবজিই বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকার আশপাশে। এর মধ্যে টমেটো ও গাজর ১৪০ টাকা, কাঁচা মরিচ ২৫০ টাকা এবং ধনেপাতা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটল, বেগুন, উচ্ছে, বরবটি, করলা ও কচুর লতির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে। তুলনামূলক কম দামের মধ্যে পেঁপে ৪০-৫০ টাকা এবং চালকুমড়া ও শসা মিলছে ৫০-৬০ টাকায়।
যাত্রাবাড়ী ও টাউনহল বাজারের ক্রেতারা জানান, একসঙ্গে কয়েক পদের সবজি কিনতে গেলেই ব্যাগের খরচ দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, আড়ত থেকে বেশি দামে কেনার কারণে তাদের করার কিছু থাকে না। এর সঙ্গে পরিবহন ও নষ্ট হওয়ার ক্ষতি যোগ করে তাদের দাম নির্ধারণ করতে হয়।
সবজির মতো মাছের বাজারেও বইছে অস্বস্তির হাওয়া। দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় এর দাম নিম্নবিত্তের তো বটেই, মধ্যবিত্তেরও নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে দেশি পাবদা, টেংরা, শিং, মাগুর, শোল, চিতল ও বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে। এমনকি ছোট কাচকি মাছও বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায়। বাধ্য হয়ে অনেকে চাষের মাছের দিকে ঝুঁকলেও সেখানেও নেই সুখবর। বাজারে চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ৩০০ টাকা এবং রুই-কাতলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজি দরে।
শ্যামবাজারের বিক্রেতারা বলছেন, জলাশয়ে এখন আর আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। আর চাষের মাছের ক্ষেত্রে মাছের খাবার, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় দাম বাড়তি।
দ্রব্যমূল্যের এই লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। ক্রেতারা বলছেন, বেতন যে হারে বাড়ে, বাজারের খরচ তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, সরকার চাইলে পাইকারি বাজার থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়ে মনিটরিং বাড়াতে পারে। শুধু খুচরা বাজারে অভিযান চালিয়ে দীর্ঘমেয়াদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ভোক্তা ও বাজার সংশ্লিষ্টদের দাবি— উৎপাদন, আমদানি, মজুত, পরিবহন ও বিপণনসহ পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত মুনাফালোভী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












