জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা: চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে শাহরিয়ার হোসেন শিহাব। কিন্তু অভাবনীয় এই সাফল্যের খবরটি আর তার শোনা হলো না। ফল ঘোষণার মাত্র দুদিন আগে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছে মেধাবী এই শিক্ষার্থী। ছেলের এই অসামান্য অর্জনের দিনে পরিবারে এখন আনন্দের বদলে বইছে কেবলই শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শিহাব কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মানরা গ্রামের গাজীর বাড়ির মো. তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। পেশায় বেসরকারি চাকরিজীবী বাবার কর্মস্থলের সুবাদে তারা সপরিবারে গাজীপুরে বসবাস করতেন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ঢাকা বিমানবন্দর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল সে। দুই ভাই-বোনের মধ্যে শিহাব ছিল সবার বড়।
গত শনিবার চাচার বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে এসেছিল শিহাব। ওই দিন দুপুরে গোসল শেষে ভেজা কাপড় রোদে শুকানোর জন্য ছাদের কার্নিশে দিতে যায় সে। এ সময় বিয়ের ডেকোরেশনের মরিচাবাতির তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হয় শিহাব। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসির ফল প্রকাশের পর তার জিপিএ-৫ পাওয়ার খবর জানতে পারে পরিবার।
শশীদল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান রিয়াদ বলেন, “মেধাবী ছাত্র শিহাবের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ছেলেটি ভালো পরীক্ষা দিয়েছিল, কিন্তু নিজের মেধার স্বাক্ষর সে আর দেখে যেতে পারল না।” অন্যদিকে, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী আক্তার গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, “মেধাবী এই কিশোরের অকাল মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।”
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












