লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ডেজার্ট, মিষ্টি পানীয় কিংবা পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট—মিষ্টিজাতীয় এসব খাবার দেখতে বা খেতে যতই নিরীহ মনে হোক না কেন, শরীরে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। খাবার খাওয়ার মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই চিনি আমাদের শরীরে এমন এক শৃঙ্খল প্রতিক্রিয়া শুরু করে, যা শক্তি, মেজাজ এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। এই স্বল্প সময়ে শরীরে কী ঘটে, তা বুঝতে পারলে আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য নিয়ে ভাবনার দৃষ্টিভঙ্গি পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।
শর্করার আকস্মিক বৃদ্ধি
শরীরে চিনি প্রবেশ করার মুহূর্তেই দ্রুত হজম প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়। অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষিত হয়ে রক্তপ্রবাহে মেশে, যার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বেড়ে যায়। প্রক্রিয়াজাত খাবার ও পরিশোধিত চিনির ক্ষেত্রে গ্লুকোজের এই বৃদ্ধি ধীরে ধীরে না হয়ে বরং খুব তীব্র ও আকস্মিকভাবে ঘটে।
ইনসুলিনের প্রতিক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার পর অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়, যা গ্লুকোজ বিপাকে সাহায্য করে। ইনসুলিন মূলত একটি চাবির মতো কাজ করে রক্ত থেকে চিনিকে কোষে প্রবেশ করতে দেয়। তবে ঘন ঘন চিনি খেলে শরীরকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। মাসের পর মাস এমনটা চললে ‘ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স’ দেখা দিতে পারে, যেখানে কোষগুলো আর সঠিকভাবে সাড়া দেয় না। এর ফলে ধীরে ধীরে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
ডোপামিনের প্রভাব ও চিনির আসক্তি
মিষ্টির স্বাদ শুধু রক্তে শর্করার মাত্রাই বাড়ায় না, এটি মস্তিষ্ককেও গভীরভাবে উদ্দীপ্ত করে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়লে মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থা বা ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং ডোপামিন নিঃসরণের মাধ্যমে একটি অস্থায়ী আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে। ঠিক এই কারণেই মিষ্টি খাবার খাওয়ার পর আরামদায়ক অনুভূতি হয় এবং বারবার মিষ্টি খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা আসক্তি তৈরি হয়।
শক্তির আকস্মিক পতন বা ‘এনার্জি ক্র্যাশ’
চিনি খাওয়ার পর তৈরি হওয়া এই উচ্ছ্বাস খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ইনসুলিন কোষের মধ্যে গ্লুকোজ প্রবেশ করানোর পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যায়। এর ফলে শরীরে হঠাৎ করেই শক্তির ঘাটতি দেখা দেয়, যাকে ‘এনার্জি ক্র্যাশ’ বলা হয়। তখন ক্লান্তি, দুর্বলতা ও অবসাদ ভর করে। ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়, যার ফলে তারা পুনরায় চিনিযুক্ত পানীয় বা হালকা খাবারের দিকে হাত বাড়ান।
দৈনন্দিন খাবারে লুকানো চিনি
শুধু সরাসরি মিষ্টিজাতীয় খাবারই নয়, আমাদের দৈনন্দিন অনেক খাবারেই চিনি লুকিয়ে থাকে। সাদা ভাত, পরিশোধিত আটার রুটি, পাউরুটি, আলু এবং প্যাকেটজাত খাবারগুলোও শরীরে একইভাবে কাজ করে। ইউনিসেফের তথ্যমতে, আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের আধিক্য এবং ফাইবারের ঘাটতির কারণে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও স্থূলতা এবং রক্তে শর্করার সমস্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এই ঝুঁকি এড়াতে সুষম খাবার গ্রহণ, চিনি খাওয়া কমানো এবং খাওয়ার পর নিয়মিত শরীরচর্চা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






