লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যাকে অনেকেই সাধারণ মনে করেন, বিশেষ করে গরমের দিনে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘন ঘন রাতের ঘাম সব সময় সাধারণ কোনো বিষয় নয়; এটি হরমোনের পরিবর্তন, সংক্রমণ, মানসিক চাপ বা রক্তে শর্করার ওঠানামার মতো বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। রাতের ঘাম নিজে কোনো রোগ নয়, বরং এটি শরীরের ভেতরের কোনো সমস্যার লক্ষণ।
রাতের ঘামের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো হরমোনের ওঠানামা। নারীদের ক্ষেত্রে পেরিমেনোপজ ও মেনোপজের সময় ইস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় শরীরে গরম ঝলকানি বা ‘হট ফ্লাশ’ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া থাইরয়েডের সমস্যা, বিশেষ করে হাইপারথাইরয়েডিজম (অতিরিক্ত সক্রিয় থাইরয়েড) বিপাকীয় হার ও শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রাতে প্রচুর ঘাম হয়।
কিছু সংক্রমণের কারণে রাতে ক্রমাগত ঘাম হতে পারে। যক্ষ্মা, কিংবা যেকোনো ভাইরাল বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের সময় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া হিসেবে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। এর সঙ্গে জ্বর, ক্লান্তি বা হঠাৎ ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আমরা ঘুমিয়ে থাকলেও আমাদের স্নায়ুতন্ত্র সক্রিয় থাকে। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ বা উদ্বেগ সহানুভূতিশীল স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে হৃদস্পন্দন ও ঘাম বেড়ে যায়। স্পষ্ট বা ভীতিকর স্বপ্ন দেখা, আতঙ্ক বা অনিদ্রায় ভোগা ব্যক্তিদের কোনো শারীরিক কারণ ছাড়াই অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে, কারণ মানসিক চাপের ফলে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়।
রাতে রক্তে শর্করার পরিমাণ কমে গেলে (রাতের হাইপোগ্লাইসেমিয়া) অতিরিক্ত ঘাম হতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীরা যারা ইনসুলিন বা নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। এর সঙ্গে অস্থিরতা, দুঃস্বপ্ন, ঘুম থেকে ওঠার পর মাথাব্যথা বা সকালের দিকে তীব্র ক্লান্তি অনুভূত হতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






