লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ব্লাড সুগার বা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা কেবল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যই নয়, সুস্থ মানুষের জন্যও অত্যন্ত জরুরি। কার্বোহাইড্রেট-জাতীয় খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ ক্লান্তি, অকারণে তীব্র ক্ষুধা অনুভব করা কিংবা মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া—এসবই রক্তে শর্করার ওঠানামার লক্ষণ। তবে সুখবর হলো, দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে ছোট কিছু পরিবর্তন এনেই এই সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখার ৫টি কার্যকরী উপায়:
১. সকালের শুরুটা হোক প্রোটিন দিয়ে অনেকেই সকালে টোস্ট, সিরিয়াল বা শুধু ফল দিয়ে নাস্তা করেন, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয় এবং পরে দ্রুত কমিয়ে ফেলে।
পরামর্শ: সকালের নাস্তায় কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখুন। সবজির সঙ্গে ডিম, টক দইয়ের সঙ্গে বাদাম বা বীজ, কিংবা মসুর ডাল ও গোটা শস্যদানা হতে পারে আদর্শ নাস্তা। প্রোটিন হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দীর্ঘক্ষণ শক্তি জোগায়।
২. খাবারের ভারসাম্য বজায় রাখা শুধুমাত্র কার্বোহাইড্রেটের ওপর নির্ভর করলে ব্লাড সুগার ‘স্পাইক’ করে বা হুট করে বেড়ে যায়।
পরামর্শ: প্রতিটি মিল বা খাবারে ‘ব্যালেন্স’ তৈরি করুন। কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং ফাইবার যুক্ত করুন। এই সংমিশ্রণ রক্তে গ্লুকোজ প্রবেশ করার গতি কমিয়ে দেয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে।
৩. নিয়মিত বিরতিতে খাবার খাওয়া অনেকে ভাবেন খাবার কম খেলে সুগার কমবে, কিন্তু খাবার ‘স্কিপ’ করা বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা হিতে বিপরীত হতে পারে। এর ফলে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায় এবং পরে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
পরামর্শ: নিয়মিত বিরতিতে অল্প অল্প করে খান। এটি সারাদিন এনার্জি লেভেল ঠিক রাখে এবং তীব্র ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে।
৪. নাস্তায় বিস্কুট নয়, প্রোটিন বাছুন কাজের ফাঁকে বা বিকেলে বিস্কুট, কুকিজ বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়ার অভ্যাস ব্লাড সুগার দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
পরামর্শ: স্ন্যাকস হিসেবে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার বেছে নিন। এক মুঠো বাদাম, বিভিন্ন বীজ, সেদ্ধ ডিম বা ভাজা ডাল হতে পারে স্বাস্থ্যকর বিকল্প।
৫. ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো ফাইবার রক্তে চিনি শোষণের গতি ধীর করে দেয়, যা খাওয়ার পর গ্লুকোজের তীব্র বৃদ্ধি রোধ করে।
পরামর্শ: প্রতিদিনের খাবারে শাক-সবজি, খোসাসহ ফল, লেবুজাতীয় ফল এবং গোটা শস্য রাখার চেষ্টা করুন। এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






