বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, অতীতের বস্তাপচা সব রাজনীতিকে পায়ের তলে ফেলে দিয়ে দেশে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সেই পুরোনো রাজনীতির পাহারাদারি যারা করবে, তারা অচল মালে পরিণত হবে।”
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যুব র্যালি ম্যারাথন ‘রাজপথে বিজয়ে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এখন বাংলাদেশে নতুন রাজনীতি করতে হবে। যেই রাজনীতি হবে দেশ, জাতি, স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের পক্ষে। যেই রাজনীতি হবে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ, দখলদার, মামলাবাজ ও ধর্ষণকারীদের বিপক্ষে। আমরা পুরোনো রাজনীতির কবর রচনা করে বাংলাদেশকে নতুন পথে নিয়ে যাওয়ার শপথ নিতে চাই।”
আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা একটি পরিবার ও গোষ্ঠীর স্বার্থে সাজানো হয়েছিল। সোনার বাংলা গড়ার কথা বলে তারা দেশকে শ্মশান বাংলায় পরিণত করেছিল। রক্ষী বাহিনীর নামে জল্লাদ বাহিনী গড়ে তোলা, ৭৪-এর দুর্ভিক্ষ, লগি-বৈঠার তাণ্ডব, বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের নৃশংসতা—সবই ছিল তাদের শাসনের চিত্র।” তিনি সুবর্ণচরের ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, প্রতীকের কারণে নারীর ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এই নির্বাচন কোনো দলের নয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয়ের দ্বার খুলে দেবে। কালো টাকার বিনিময়ে মানুষ কেনার দিন শেষ।” নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা কোনো আনুকূল্য চাই না। কিন্তু কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে জনগণই তা নিঃশেষ করে দেবে।”
সাম্প্রতিক হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদীরা পালিয়ে গিয়েও শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। ওসমান হাদির ওপর হামলা তার প্রমাণ। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ করে ফিরিয়ে দেন।” যুবসমাজই সব বাধা ভেঙে শান্তির বাংলাদেশ গড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






