আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: দু’দিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালানোর পর অবশেষে সহিংসতা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সংঘাত থামিয়ে তারা ফের আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার (২৮ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কাতারের রাজধানী দোহায় আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের মধ্যে এই আলোচনা শুরু হবে। অ্যাক্সিওসকে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তিতে’ উল্লিখিত পয়েন্টগুলো নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। তিনি আরও বলেন, উভয়পক্ষই বর্তমানে শান্ত আছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো মুক্তভাবে চলাচলে এখন আর কোনো বাধা নেই।
এর আগে গত ২৫ জুন বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালিতে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরানের নৌবাহিনী। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্রের ডিপো এবং রাডার সিস্টেমে পাল্টা হামলা চালায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। এরপর প্রায় দু’দিন ধরে পরস্পরকে লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালায় সেন্টকম এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সেন্টকমের হামলার জবাব দিতে কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছিল আইআরজিসি।
তবে মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ওই হামলায় কুয়েত ও বাহরাইনের মার্কিন ঘাঁটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। কুয়েত এবং বাহরাইনের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকেও পৃথক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের মাধ্যমে আকাশে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার পর ২৭ জুন ইরানের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল প্রেস টিভির মাধ্যমে আইআরজিসি ঘোষণা করেছিল, গত ২৫ জুন ইরানে হামলার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলাফল মার্কিন বাহিনীকে ভুগতে হবে। সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে নরক নেমে আসবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় তারা।
আইআরজিসির এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি কড়া পোস্ট দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, “আমরা খুব সফলভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলাম। এখন তা স্থগিত আছে, কিন্তু এমন মুহূর্ত যে কোনো সময় আসতে পারে যখন আমরা আর যৌক্তিক আচরণ করব না। আর সত্যিই যদি এমন মুহূর্ত আসে, তাহলে পৃথিবীর মানচিত্রে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরান’ নামে কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে না।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই কড়া বার্তার পরই মূলত সংঘাত বন্ধ করে আবারও আলোচনায় বসতে সায় দেয় ইরান।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






