আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: পাকিস্তানের সঙ্গে গোপন কূটনৈতিক আলোচনা ও সিন্ধু নদের পানি বণ্টন চুক্তিতে ভারতের নমনীয় অবস্থানের খবরকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছে ভারতীয় সরকারি সূত্র। একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সরকারি বা অনানুষ্ঠানিক কোনো অনুমোদিত আলোচনা চলছে না এবং সিন্ধু নদ চুক্তি শিথিল করারও কোনো পরিকল্পনা নেই।
ভারতের উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদের প্রতি নয়াদিল্লির অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসবে না। আকাশপথ ব্যবহার কিংবা অন্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হলেও সন্ত্রাসবাদ ও পানি চুক্তির প্রশ্নে ভারতের অবস্থান আগের মতোই কঠোর থাকবে। সম্প্রতি দুই দেশের সাবেক কর্মকর্তা বা গবেষকদের অংশগ্রহণে যেসব আন্তর্জাতিক আলোচনা হয়েছে, সেগুলোকে সরকারি কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয় বলে জানানো হয়। কারণ এসব বৈঠকে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা নিজ নিজ ব্যক্তিগত পরিচয়ে উপস্থিত থাকেন এবং সেখানে কোনো দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন বা দায়বদ্ধতা থাকে না।
ভারতের কঠোর অবস্থানের পেছনে রয়েছে গত বছর কাশ্মীরের পেহেলগামে সংঘটিত প্রাণঘাতী হামলা। ওই হামলায় সাধারণ মানুষ ও পর্যটক নিহত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল থেকে ঐতিহাসিক সিন্ধু নদ চুক্তি কার্যকরভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি। সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, পাকিস্তান তার ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতের বিরুদ্ধে পরিচালিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বন্ধ না করা পর্যন্ত চুক্তি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
সরকারি সূত্রের দাবি, নিরাপত্তা এবং সন্ত্রাসবিরোধী নীতির সঙ্গে পানি বণ্টনের বিষয়টি এখন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়েছে। এদিকে চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর পশ্চিমাঞ্চলের নদীগুলোর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু করেছে ভারত। বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি নদীর তলদেশে জমে থাকা পলি অপসারণের কাজও জোরদার করা হয়েছে, যাতে দেশের ভেতরে পানির ব্যবহার আরও বাড়ানো যায়। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, এসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে দেশটির পানি ব্যবস্থাপনাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং কৃষি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অন্যদিকে পাকিস্তান শুরু থেকেই ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ইসলামাবাদের দাবি, দীর্ঘদিনের এই পানি চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত করা আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে ভারত বলছে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে তাদের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পূর্ণ ন্যায়সঙ্গত। সন্ত্রাসবাদ দমনে দৃশ্যমান পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বা সিন্ধু নদ চুক্তি নিয়ে কোনো ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






