আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক চাপের মুখে সোমবার (২২ জুন) পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। একই সঙ্গে দায়িত্ব ছাড়ার একটি সময়সূচি বা রূপরেখাও প্রকাশ করতে পারেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য অবজারভার’ জানিয়েছে, নিজ দল লেবার পার্টির অভ্যন্তরে প্রবল বিরোধিতার জেরে গ্রামীণ সরকারি বাসভবন চেকার্সে স্ত্রীর সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করছেন স্টারমার। যদিও সরকারি একটি সূত্রের দাবি, তিনি এখনো সরকার পরিচালনার কাজেই বেশি মনোযোগী।
গত শুক্রবার একটি উপনির্বাচনে স্টারমারের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম জয়লাভ করার পর এই পদত্যাগের চাপ বহুগুণে বেড়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা, জীবনযাত্রার মানের অবনতি, নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন এবং অবৈধ অভিবাসন ইস্যুতে স্টারমারের জনপ্রিয়তায় ব্যাপক ধস নেমেছে। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, হাউস অব কমন্সে লেবার পার্টির মোট সদস্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ (১০০ জনেরও বেশি এমপি) প্রকাশ্যে তার পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন। তিনি পদত্যাগ করলে বা ক্ষমতাচ্যুত হলে, মাত্র এক দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ব্রিটেন তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী দেখতে পাবে।
স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে ৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহামের নাম। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহাম শুক্রবারের শূন্য আসনের উপনির্বাচনে ডানপন্থি নেতা নাইজেল ফারাজের দলের চ্যালেঞ্জ সহজেই মোকাবিলা করে জয়ী হন। যদিও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারকে এখনো চ্যালেঞ্জ জানাননি, তবে তার ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে স্বেচ্ছায় ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও প্রয়োজনে নেতৃত্বের লড়াইয়ে অংশ নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন। ‘দ্য টাইমস’ বলছে, বার্নহাম শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী রাচেল রিভিসকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিতে পারেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






