আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গঠিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অব পিস’ জানিয়েছে, হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ শেষ হওয়ার পরই কেবল গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে। সংস্থাটির পরিচালক নিকোলাই ম্লাদেনভ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ তথ্য জানানো হয়।
গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন। এরপর চুক্তিটি নিয়ে ইসরায়েলি রাজনীতিকদের অসন্তোষের মধ্যেই সোমবার পশ্চিম জেরুজালেমে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইসরায়েলের ধ্বংসাত্মক হামলার পর গাজার প্রশাসন তদারকির জন্য গত জানুয়ারিতে এই বোর্ড গঠিত হয়েছিল।
বোর্ড অব পিস একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে, “ভুল প্রতিবেদনের বিপরীতে আমরা স্পষ্ট জানাচ্ছি, হামাস মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সে অনুযায়ী নিরস্ত্রীকরণ সম্পন্ন হলেই কেবল ‘ইয়েলো লাইন’-এর ওপারে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। এটি হালকা অস্ত্র, ভারী অস্ত্র এবং সুড়ঙ্গ—সব ক্ষেত্রেই সমভাবে প্রযোজ্য।”
উল্লেখ্য, ‘ইয়েলো লাইন’ হলো সেই সীমারেখা, যার আড়ালে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় তাদের সামরিক ঘাঁটি গেড়ে রেখেছে। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বোর্ড অব পিস আরও জানায়, গাজা উপত্যকাকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ এবং বন্দুকের শাসন থেকে বেসামরিক শাসনে উত্তরণ করাই তাদের সুস্পষ্ট লক্ষ্য। তবে এর পাল্টা জবাবে হামাস স্পষ্ট জানিয়েছে, ইসরায়েল চুক্তির নিজস্ব অংশ বাস্তবায়ন না করলে এই চুক্তি কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।
সংশ্লিষ্ট দুটি সূত্র সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছে, আলোচনা চলাকালে ম্লাদেনভ নেতানিয়াহুকে গাজায় হামলা বন্ধ করার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও ইসরায়েল উপত্যকায় হামলা বন্ধ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে। ওই চুক্তির পর থেকে ইসরায়েল ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি ঘোষণার পর নিহত হয়েছেন অন্তত ৩৬ জন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
বৈঠকের আগে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, প্রকাশিত চুক্তির সংস্করণটি ইসরায়েলের মূল অবস্থানকে প্রতিফলিত করে না এবং এ-সংক্রান্ত ইসরায়েলের উদ্বেগ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কট্টর ডানপন্থী সরকারের সদস্যরা ইতোমধ্যেই চুক্তি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ দাবি করেছেন, “এই চুক্তিটি ইসরায়েলি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।” তিনি অবিলম্বে এ বিষয়ে নতুন করে ভোটের দাবি জানিয়েছেন।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












