প্রযুক্তি ডেস্ক
ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে বিশ্বব্যাপী সফটওয়্যার কোডিং স্বয়ংক্রিয় হয়ে পড়ায় সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের চাকরির বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সফটওয়্যার উন্নয়ন খাতের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে তরুণ প্রকৌশলী ও শিক্ষার্থীরা এখন নতুন ক্যারিয়ার হিসেবে সেমিকন্ডাক্টর বা কম্পিউটার চিপ উৎপাদন শিল্পের দিকে ঝুঁকছেন। এই চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও তাদের পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজিয়ে শিক্ষার্থীদের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উপযোগী করে গড়ে তুলছে।
বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ম্যাককিনসি ও সেমিফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এআই মডেলগুলো পরিচালনার জন্য বিশ্বজুড়ে উন্নত মেমোরি ও লজিক চিপের চাহিদা যেমন রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছে, তেমনি চিপ তৈরির নতুন নতুন কারখানা স্থাপিত হলেও সেগুলোতে চরম দক্ষ প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদের সংকট দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর খাতেই ১ লাখ ২৭ হাজার থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার দক্ষ কর্মীর ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
দক্ষ কর্মীর তীব্র সংকট থাকায় এই খাতে মিলছে আকাশচুম্বী বেতন ও আকর্ষণীয় বোনাস। সেমিফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চিপ শিল্পে একজন প্রকৌশলীর বার্ষিক গড় বেতন ১ লাখ ২৭ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৮৭ হাজার ডলারের বেশি হয়ে থাকে। তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি), ইন্টেল ও স্যামসাংয়ের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টরা দক্ষ কর্মী তৈরিতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করেছে। ফলে এআই যুগে সফটওয়্যার কোডিংয়ের চেয়ে হার্ডওয়্যার ও চিপ ইঞ্জিনিয়ারিংই এখন ভবিষ্যতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












