বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: রাষ্ট্র পরিচালনায় বর্তমান সরকারের চরম ব্যর্থতা এবং ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাঙ্গনগুলোকে উত্তপ্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। তিনি বলেন, সিন্ডিকেট বাণিজ্য, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, পুঁজিবাজারের দুরবস্থা, বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির মতো জাতীয় সংকটগুলো ধামাচাপা দিতেই ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অব্যাহত সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নীতি ও ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মী ও শিক্ষকদের ওপর ছাত্রদলের হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়। নূরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সিটি কলেজে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে সেখানে কুরুচিপূর্ণ শব্দ লিখেছে। এর প্রতিবাদ জানাতে গেলে প্রশাসন ও শিক্ষকদের সামনেই রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়, এতে শিবিরের অনেক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। এছাড়া তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী সাকিবকে নির্মমভাবে হত্যা ও কুয়েটে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা সাধারণ মিছিলে যোগ দিচ্ছে না বলেই ছাত্রদল জোরপূর্বক আধিপত্য বিস্তারের জন্য পুরোনো সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে এবং পতিত স্বৈরাচারের দোসর ছাত্রলীগকে নিজেদের দলে পুনর্বাসন করছে।
বর্তমান সরকারকে ‘জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি’ উল্লেখ করে শিবির সভাপতি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তারা যেন জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে তামাশা করে ‘গাদ্দারে’ পরিণত না হয়। বিগত দুই মাসে ৩১ জন মানুষকে হত্যা এবং অসংখ্য ধর্ষণের ঘটনায় সরকারদলীয়দের জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনতিবিলম্বে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সিটি কলেজে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং সব ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। অন্যথায়, বর্তমান সরকারকে ফ্যাসিবাদের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতি এবং বড় ধরনের গণবিস্ফোরণের মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্কবার্তা দেন নূরুল ইসলাম।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






