বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: কক্সবাজারের কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পর্যটকরা। ঈদের দিন ভোরে শহরের কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক সফর সংক্ষিপ্ত করে কক্সবাজার ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে হোটেল মালিকদের সংগঠন।
কক্সবাজারের কলাতলী জোনে পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউস রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ১ লাখ ৮৬ হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা আছে। ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকে পর্যটকদের ব্যাপক ভিড় শুরু হলেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যুৎ-সংকটে লিফটে আটকে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটছে। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক মো. ইব্রাহিম জানান, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় তার পরিবারের সদস্যরা হোটেলের লিফটে আটকে পড়েন এবং প্রায় ২০ মিনিট পর তাদের উদ্ধার করা হয়। ফকিরাপুল থেকে আসা আরেক পর্যটক আবদুস সামাদ জানান, হোটেলে বিশ্রাম নেওয়ার সময়ও বিদ্যুৎ না থাকায় এসি বা ফ্যান ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
হোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন এবং অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন। জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে হোটেলগুলোর প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা বাড়তি জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে, যা ব্যবসায়ের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আর্থিক ক্ষতির চেয়ে কক্সবাজারের ভাবমূর্তি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও সাবস্টেশন সংকটের কারণে বর্তমানে সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ৪০ মেগাওয়াট, ফলে ১০ মেগাওয়াট ঘাটতি রয়েছে। পিডিবির নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী জানিয়েছেন, বিকল ট্রান্সফরমারটি সচল করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং সোমবারের মধ্যে এটি চালু করা গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






