বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত মহাপরিকল্পনা ২০২৬-২০৫০’ উপস্থাপন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের সভায় এই পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধান উপদেষ্টা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের গবেষণার জন্য একটি ‘স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী ইনস্টিটিউট’ গঠনের নির্দেশ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে না; বরং এটি স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সরকারকে নীতি নির্ধারণে সহায়তা করবে।
উপস্থাপিত মহাপরিকল্পনাটি তিন ধাপে (২০২৬-৩০, ২০৩০-৪০ ও ২০৪০-৫০) বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম ধাপে অফশোর গ্যাস অনুসন্ধান, এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় হাইড্রোজেন, অ্যামোনিয়া, ভূ-তাপীয় শক্তি এবং সমুদ্র তরঙ্গভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কৌশল রাখা হয়েছে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদা বর্তমান ১৭ গিগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫৯ গিগাওয়াটে পৌঁছাবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে ২০২৬-২০৫০ মেয়াদে জ্বালানি খাতে ৭০-৮৫ বিলিয়ন এবং বিদ্যুৎ খাতে ১০৭.২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা অতীতের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে বলেন, “অতীতে অনেক কিছু ভুল লোকেশনে ও ভুল স্ট্রাকচারে হয়েছে। একদম শুরু থেকে চিন্তা করতে হবে।” তিনি টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভায় জানানো হয়, ইতোমধ্যেই বিতর্কিত ‘কুইক রেন্টাল আইন’ বাতিল করা হয়েছে এবং নতুন করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার কথাও মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






