বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ৭ দিনের মধ্যে দাখিলের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে আইনমন্ত্রী নিজেই গণমাধ্যমকে এই নির্দেশনার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ শেষ করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসার নিথর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার এবং অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে। মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ওই দিন সন্ধ্যায় তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেছে। তবে মামলার অজ্ঞাত আরেক আসামি এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মূল আসামি সোহেল শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এছাড়া এই প্রধান আসামি আজ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।
এদিকে, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু রামিসার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনরা ইতিমধ্যেই অশ্রুসিক্ত নয়নে রামিসাকে তাদের গ্রামের বাড়িতে দাফন করেছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






