আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় যুক্তরাজ্যের বিমানবাহিনী ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ারফোর্সের (আরএএফ) একটি নজরদারি বিমানকে ‘একাধিকবার’ ও ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান। গত মাসে কৃষ্ণসাগরের আকাশে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে বলে গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাশিয়ার একটি অত্যাধুনিক সু-৩৫ (Su-35) যুদ্ধবিমান যুক্তরাজ্যের নজরদারি বিমান ‘রিভেট জয়েন্ট’-এর বিপজ্জনকভাবে কাছাকাছি চলে আসে। রুশ যুদ্ধবিমানটি এতটাই কাছে ছিল যে, ব্রিটিশ বিমানটির অটোপাইলট মোড স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং জরুরি সুরক্ষাব্যবস্থা সচল করতে হয়।
পরিস্থিতি আরও ভয়ংকর রূপ নেয় যখন রাশিয়ার আরেকটি যুদ্ধবিমান সু-২৭ (Su-27) ব্রিটিশ বিমানটির সামনে দিয়ে অন্তত ছয়বার চক্কর দেয়। একপর্যায়ে রুশ এই যুদ্ধবিমানটি ব্রিটিশ বিমানের মাত্র ছয় মিটার বা ১৯ ফুট দূরত্বে অবস্থান করছিল, যা আকাশপথে যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করেছিল।
রাশিয়ার যুদ্ধবিমানের এই আক্রমণাত্মক আচরণকে সম্পূর্ণ ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি। চরম উত্তেজনাকর সেই মুহূর্তে অসাধারণ পেশাদারত্ব প্রদর্শনের জন্য ব্রিটিশ ক্রুদের প্রশংসাও করেন তিনি।
জন হিলি বলেন, “ঘটনাটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরস্ত্র একটি বিমানের প্রতি রুশ পাইলটদের বিপজ্জনক ও অগ্রহণযোগ্য আচরণের আরেকটি জ্বলন্ত উদাহরণ। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে পারে।” তিনি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এই ধরনের উসকানি রুশ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ন্যাটো, মিত্রদেশ এবং যুক্তরাজ্যের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষার অঙ্গীকারকে বিন্দুমাত্র দুর্বল করতে পারবে না। এ ঘটনায় লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসকে তীব্র নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্যমতে, ২০২২ সালের পর যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে এটিই রাশিয়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক উসকানিমূলক পদক্ষেপ। ওই ঘটনার সময় ব্রিটিশ নজরদারি বিমানটি মূলত ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তের নিরাপত্তা বাড়াতে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিয়মিত টহল দিচ্ছিল।
এর আগে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষ্ণসাগরের ওপরেই ব্রিটিশ গোয়েন্দা বিমান লক্ষ্য করে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন এক রুশ পাইলট। প্রথমটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর রাশিয়া একে ‘কারিগরি ত্রুটি’ বলে দাবি করেছিল। তবে পরবর্তীতে পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, রুশ গ্রাউন্ড স্টেশন থেকে অস্পষ্ট নির্দেশ পেয়েই ওই পাইলট ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিলেন। এছাড়া সম্প্রতি উত্তর সাগরে যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন অবকাঠামোর কাছেও রুশ সাবমেরিনের আনাগোনা বেড়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
ব্রিটিশ বিমানবাহিনীর ৫১ নম্বর স্কোয়াড্রন আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট (RC-135W Rivet Joint) নামের এই নজরদারি বিমানগুলো পরিচালনা করে থাকে। সাধারণত লিঙ্কনশায়ারের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করা এই বিমানে অত্যন্ত উন্নতমানের সেন্সর যুক্ত রয়েছে, যা যেকোনো সিগন্যাল বা সংকেত বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক কৌশলগত ও সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম।
বাংলাফ্লো/এফআইআর





