বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: গতকাল জাতীয় সংসদে দেশের ৫৫তম বাজেট প্রস্তাবনায় শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের রূপরেখা তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাংলাদেশকে একটি দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা ও ইংরেজির সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে তৃতীয় ভাষা শিক্ষা চালুর বড় উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি বা জার্মানের মতো যেকোনো একটি আন্তর্জাতিক ভাষা শেখার সুযোগ পাবে। এ লক্ষ্যে তৃতীয় ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা সংশ্লিষ্ট দেশে উচ্চশিক্ষায় যেতে আগ্রহী, তাদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বাজেটে। শিক্ষাক্রমে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকার এমন একটি শিক্ষাকাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা ও আগ্রহ অনুযায়ী দক্ষ কারিগর, প্রযুক্তিবিদ, কৃষি উদ্যোক্তা, গবেষক, শিল্পী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী কিংবা ক্রীড়াবিদ হিসেবে সমান মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ ক্লাবভিত্তিক সহশিক্ষা কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় শিক্ষার সাথে বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত বাজেটের এই বিশাল ব্যয় ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সংস্থানের একটি রূপরেখাও দেওয়া হয়েছে। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই নেওয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



