বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই; বরং কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিমভাবে লম্বা লাইন তৈরি করে সংকট দেখাচ্ছে এবং একটি ‘ইনফরমাল মার্কেট’ বা কালোবাজার গড়ে তুলছে। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনায় (বিধি-৬৮) অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এ বিষয়ে নোটিশটি উত্থাপন করেছিলেন।
মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করে জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানির মজুত সম্পূর্ণ সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল থেকে শুরু করে মেরিন ও জেট ফুয়েলের সরবরাহও একদম স্বাভাবিক। তিনি সরকারি পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, ২০২৫ সালের তুলনায় চলতি ২০২৬ সালে জ্বালানি সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে ডিজেলের সরবরাহ প্রায় ৩৭.৫ শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ ৩০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি নেওয়ার দীর্ঘ লাইনকে ‘কৃত্রিম চাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত মুনাফার লোভে সাধারণ মানুষের চাহিদাকে ব্যবহার করে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে। তবে সরকার বসে নেই; পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুত ও কালোবাজারি চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং বিপুল পরিমাণ জ্বালানি উদ্ধার করে তা পুনরায় বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে।
এলপিজি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তে এই খাতটি বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ায় সরকার এখন সরাসরি এর মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে না। বর্তমানে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের মাধ্যমেই এলপিজির মূল্য নির্ধারিত হয়।
জ্বালানি খাতে এই অস্থিরতা ও কালোবাজারি দূর করতে সংসদে বিরোধী দলসহ সবার সম্মিলিত জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান মন্ত্রী। সরকার জনগণের সুবিধার জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে জানিয়ে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন বিষয়টি গভীরভাবে অনুসন্ধান করে দেশবাসীর সামনে প্রকৃত চিত্রটি তুলে ধরেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






