আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: গত ২৬ আগস্ট বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা বা হড়পা বানের রেশ কাটতে না কাটতেই একই এলাকায় নতুন করে আরও একটি বানের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে তিব্বতে সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ স্থগিত করেছে চীন। আজ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল সিসিটিভি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বত-নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন একটি ‘বেরিয়ার হ্রদের’ সন্ধান মিলেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে সেটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আগামী তিন দিন তিব্বতে উদ্ধারকাজ স্থগিত থাকবে।
নতুন ব্যারিয়ার হ্রদটির অবস্থান গত ২৬ আগস্ট ভেঙে পড়া হ্রদটি থেকে আরও কিছুটা উজানে, তিব্বতের ছোচেন খোলা ও পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলে। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমানে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে। এরই মধ্যে হ্রদটি থেকে পানি উপচে পড়তে শুরু করেছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি সেখানে প্রবেশ করতে পারে বলে সতর্কতা জারি করেছে চীন।
‘ব্যারিয়ার হ্রদ’ হলো এমন এক ধরনের হ্রদ, যা সাধারণত কোনো নদী বা জলপ্রবাহের পথ প্রাকৃতিক বাধায় আটকে গিয়ে তৈরি হয়। বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বানের কারণও ছিল এমনই একটি হ্রদ। তুষারধসের জেরে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকার ভোতিকোশি নদীর শাখানদী লেহেন্দেতে একটি ব্যারিয়ার হ্রদ তৈরি হয়েছিল। নদীর পানিপ্রবাহের প্রবল চাপে একসময় সেটি ভেঙে পড়ে এবং আটকে থাকা লাখ লাখ ঘনমিটার পানি লেহেন্দ নদী থেকে ভোতিকোশিতে প্রবেশ করে। এর জেরে বুধবার বেলা ১০টা ৩০ মিনিটে নেপালের সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়া এবং তিব্বতের সীমান্তবর্তী জেলা গিরংয়ে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
ভয়াবহ সেই বন্যায় রাসুয়া ও গিরংয়ে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় ৫০০ মানুষ এবং এখনও নিখোঁজ আছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন, যাদের মধ্যে ৮৬৫ জন বিদেশি নাগরিক। হড়পা বানের জেরে লাখ লাখ টন কাদা-পাথর ও জঞ্জালের স্তূপের নিচে চাপা পড়েছে রাসুয়া, গিরং এবং এ দুই জেলার সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকা। নেপালে এখনও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নতুন হ্রদটির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পানিসীমা ও ভৌগোলিক পরিবর্তনের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছে চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিপজ্জনক এলাকায় থাকা গ্রামগুলো দ্রুত খালি করা হয়েছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে বেইজিং এবং চেংদু থেকে বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ









