আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েন ও কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং জীবনযাত্রার মানের অবনতি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ থাইল্যান্ডে নোঙর করছে। আগামী সপ্তাহে থাইল্যান্ডের উপকূলে মার্কিন এই রণতরী পৌঁছাতে পারে বলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দেশটির এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগ করা ওই রণতরী টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কোনো বন্দরে নোঙর করেনি। মার্কিন ডেমোক্র্যাটদলীয় আইনপ্রণেতারা বলেছেন, আধুনিক ইতিহাসে টানা সমুদ্রে অবস্থানের দিক থেকে নতুন রেকর্ড গড়েছে রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন।
সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনীর মিশন বা মোতায়েন ছয় থেকে ৯ মাসের জন্য হয়ে থাকে। তবে কোনো যুদ্ধ বা সংঘাতকালীন পরিস্থিতিতে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে থাই ওই কর্মকর্তা বলেছেন, প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সৈন্যবাহী এই রণতরী দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার পর বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করবে।
থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী জানিয়েছে, মার্কিন নৌবাহিনীর একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সেনাসদস্যদের বিশ্রাম, বিনোদন এবং প্রয়োজনীয় রসদ বা জ্বালানি সংগ্রহের অংশ হিসেবে পূর্ব থাইল্যান্ডে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি করবে। এই সময়ে কোনো যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তারা নির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সঙ্গে থাকা তিনটি যুদ্ধজাহাজের নাম প্রকাশ করেনি। এক বিবৃতিতে থাই নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই বিরতি নিয়মিত বন্দর সফর; যার মূল উদ্দেশ্য সেনাসদস্যদের মানসিক ও শারীরিক বিশ্রাম এবং লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ব্যাংককে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
জানা যায়, গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর ঘাঁটি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। পরবর্তীতে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক অভিযানে অংশ নিতে এই রণতরীকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়।
সামরিক সংবাদ বিষয়ক দুই সংবাদমাধ্যম ‘নেভি টাইমস’ এবং ‘স্টারস অ্যান্ড স্ট্রাইপস’ চলতি মাসে এই রণতরীর সৈন্যদের বিধ্বস্ত দশা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, রণতরী আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের আত্মহত্যার চেষ্টা এবং মনোবল কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, জাহাজের পরিস্থিতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ড দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মূল ভূখণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র চুক্তিভিত্তিক অংশীদার। দেশটি ১৯৫৪ সাল থেকে চুক্তিভিত্তিক মিত্র এবং ২০০৩ সাল থেকে ন্যাটো-বহির্ভূত প্রধান মিত্র (মেজর নন-ন্যাটো অ্যালাই) হিসেবে কাজ করছে। উভয় দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে অত্যন্ত শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











