আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস (BRICS) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ সাত বছর পর তার এই ভারত সফর পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশ—ভারত ও চীনের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের বরফ গলার নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। জানা গেছে, প্রায় ৪০০ সদস্যের এক বিশাল প্রতিনিধিদল নিয়ে তিনি এই সফরে যাবেন।
বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত ভারতের একটি সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীনা কর্মকর্তারা বর্তমানে শি জিনপিংয়ের হোটেল ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রটোকল চূড়ান্ত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ২০১৯ সালে তার সর্বশেষ ভারত সফরে প্রতিনিধিদলের সদস্য সংখ্যা ছিল ২০০ জনের কম। এবার ৪০০ জনের এই বহর ভারত-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে ব্রিকসের নিজস্ব কর্মসূচির চেয়েও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও দীর্ঘ সাত বছর পর চীন সফর করেছিলেন। এরপর থেকে দেশ দুটির সম্পর্ক ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে এগোলেও সম্প্রতি সীমান্তসংক্রান্ত নতুন একটি বিরোধকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দেয়। সূত্রমতে, আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই দেশের কর্মকর্তারা পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা বাড়ানোর উপায় খুঁজবেন। তবে শি জিনপিংয়ের সফরের চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের কর্মসূচি এখনো নির্ধারিত হয়নি।
সীমান্ত ইস্যু ও বর্তমান পরিস্থিতি ভারত ও চীনের মধ্যে হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যার বড় অংশই দীর্ঘদিন ধরে বিরোধপূর্ণ। ২০২০ সালের ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে ভারতের ২০ এবং চীনের চার সেনা নিহতের পর দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে দেশ দুটি সেনা সরিয়ে নেওয়া বা বিচ্ছিন্নকরণসংক্রান্ত একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। গত জুলাইয়ে দুর্গম সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সেনা টহলদল মুখোমুখি হওয়ার খবর প্রকাশের পর, গত ১২ আগস্ট ভারত জানায়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য সীমান্তে শান্তি বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই সীমান্ত ইস্যু নিয়ে আলোচনার জন্যই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল সোমবার (২৪ আগস্ট) থেকে বেইজিং সফর শুরু করেছেন, যেখানে তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি ভারত ও চীনের মধ্যে অভিন্ন স্বার্থের একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছে। ফলে বাইরের কোনো চাপে ব্রিকস বা ভারত-চীন সম্পর্ক যেন দুর্বল না হয়, সেদিকেই দুই দেশ নজর দিচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো তথ্য না দিলেও তারা জানিয়েছে, ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতি ভারতকে চীন পূর্ণ সমর্থন করে। অন্যদিকে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












