বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর সবচেয়ে বড় গবাদি পশুর হাট গাবতলীতে এখনো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনবরত গরু আসছে। বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকে শত শত ট্রাক ও মিনি পিকআপে করে পশুবাহী যানবাহন হাটে প্রবেশ করায় গরুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। তবে হাটে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও ভোগান্তি। সরেজমিনে দেখা যায়, হাটের নির্ধারিত সীমানা অনেক আগেই ছাড়িয়ে গাবতলী মাছের আড়তের এলাকাও অতিক্রম করেছে কোরবানির পশুর হাট। সীমানার মধ্যে কিছু শামিয়ানা থাকলেও হাজার হাজার গরু বাঁধা রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। ওপর নামমাত্র পলিথিন বা ত্রিপল টাঙানো হলেও সকাল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে শেষ রক্ষা হচ্ছে না। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে গরু, বিক্রেতা ও ক্রেতারা যেমন ভিজছেন, তেমনি পুরো হাট কাদা-পানিতে একাকার হয়ে কর্দমাক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
আজ সকাল থেকেই গাবতলী মহাসড়ক থেকে শুরু করে বসিলা সড়কে ট্রাক ও মিনি ট্রাকের দীর্ঘ জট দেখা গেছে। মানিকগঞ্জ, নবাবগঞ্জ, দোহার, গাজীপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা এসব ট্রাকে শত শত গরু রয়েছে। হাটের ভেতরে জায়গা সংকটের কারণে গরু কোথায় নামানো হবে, তা নিয়ে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ি এক জায়গাতেই দাঁড়িয়ে থাকায় শত শত পশু ক্লান্ত হয়ে গাড়ির ভেতরেই শুয়ে পড়ছে। অনেক ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে এখনো গরু ট্রাকেই রেখে দিয়েছেন এবং ট্রাকের ওপরই গরুকে খাওয়ানো ও দেখাশোনার কাজ করছেন। কাদার কারণে হাটে পা ফেলার মতো অবস্থা না থাকায় নতুন করে গরু নামানো, বেঁধে রাখা এবং ক্রেতাদের পশু দেখানো অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ব্যবসায়ীরাও ভেজা কাপড়েই ঘণ্টার পর ঘণ্টা হাটে অবস্থান করছেন।
মানিকগঞ্জ থেকে আসা গরু ব্যবসায়ী ইকবাল হাসান জানান, বৃষ্টির কারণে স্বাভাবিক বেচাকেনা ব্যাহত হচ্ছে এবং কাদার জন্য ক্রেতাদের গরু দেখাতে সমস্যা হওয়ায় বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। তবে আজই শেষ দিন হওয়ায় বিকেল নাগাদ বৃষ্টি কমলে সব গরু বিক্রি শেষ করতে পারবেন বলে তিনি আশা করছেন। নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা আজাদ ব্যাপারী ও নবাবগঞ্জের সাইদুর রহমানের মতো অনেক বিক্রেতাই হাটের প্রবেশমুখে দীর্ঘ সময় ধরে ট্রাক নিয়ে অপেক্ষা করছেন, কিন্তু ভেতরে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় তারা পশু নামাতে পারছেন না। অন্যদিকে ক্রেতারাও হাটের এই চরম অব্যবস্থাপনা ও কাদা মাড়িয়ে পশু কেনা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন। ঈদের আগমুহূর্তে অতিরিক্ত গরুর চাপ এবং বৃষ্টি ও কাদার কারণে গাবতলী পশুর হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের জন্যই চরম দুর্ভোগের এক বড় চিত্রে পরিণত হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




