বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ সহজীকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকায়নে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১২তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। চলতি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যবসা-সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের লক্ষ্যেই যুগান্তকারী এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের সেবা প্রাপ্তি সহজতর করতে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পিপিপি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে। এই নতুন কর্তৃপক্ষ দেশের শীর্ষ বিনিয়োগ উন্নয়ন ও সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। বিনিয়োগকারীরা এখন থেকে একটি মাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ‘সিঙ্গেল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্স’-এর মাধ্যমে লাইসেন্স, অনুমোদন ও নিবন্ধনসহ সব সরকারি সেবা পাবেন, যার ফলে কাজের দ্বৈততা ও দীর্ঘসূত্রতা কমবে। এছাড়া সরকারের অব্যবহৃত জমি ও স্থাপনা উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ এই আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রণীত ‘জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০)’-এর মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করা এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অন্তত ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা। বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রুফটপ সোলার, স্মার্ট গ্রিড, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ, বায়ুবিদ্যুৎ এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে বিশেষ শুল্ক ছাড় ও কর অবকাশের সুবিধা দেওয়া হবে। এছাড়া একটি বিশেষ ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি ফান্ড’ গঠন করা হবে এবং এই খাতের প্রযুক্তিগত জনবল তৈরিতে অন্তত ৩০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। পুরো কার্যক্রম তদারকি করবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন ‘জাতীয় পলিসি কাউন্সিল’।
অন্যদিকে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন ‘আমদানি নীতি আদেশ (২০২৬-২০২৯)’ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আধুনিকায়নে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন থেকে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি)-এর পাশাপাশি ‘ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি’ এবং ওপেন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে মূল্যসীমা ছাড়াই পণ্য আমদানি করতে পারবেন। রফতানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে বিনা মূল্যে (ফ্রি অব কস্ট) কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও সেন্ট্রাল বন্ডেড ওয়্যারহাউজ প্রতিষ্ঠার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন এই নীতিতে প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করে তাদের জন্য ক্যাপিটাল মেশিনারি ও কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। এছাড়া, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সুরক্ষায় ক্ষতিকর কীটনাশক আমদানি নিষিদ্ধ করা হলেও প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের অনুমতি সাপেক্ষে নির্দিষ্ট কিছু সিমেন আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






