স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: ম্যাচের মতো ফল নির্ধারণী টাইব্রেকারেও চরম নাটকীয়তার জন্ম দিল মরক্কো ও নেদারল্যান্ডস। স্নায়ুরক্ষার এই লড়াইয়ে উভয় দলই যেন একের পর এক পেনাল্টি মিসের মহড়ায় নেমেছিল। শেষ পর্যন্ত ৫টি করে শট নেওয়ার পর ৩-২ ব্যবধানে ডাচদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে স্কোরলাইন ১-১ সমতায় থাকায় খেলা গড়িয়েছিল টাইব্রেকারে।
ম্যাচে প্রথম থেকেই মরক্কোর আধিপত্য ছিল। তবে ডেডলক ভাঙে ৭২ মিনিটে। কোডি গাকপোর গোলে প্রথমে লিড নেয় নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ম্যাচের ৯১ মিনিটে ইসা দিওপের গোলে সমতায় ফেরে মরক্কো। অতিরিক্ত সময়ে ৯৬ মিনিটে ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন মরক্কোর ফরোয়ার্ড সুফিয়ান রাহিমির প্রায় নিশ্চিত একটি গোল দুর্দান্তভাবে বাঁচিয়ে দেন, নইলে টাইব্রেকারের আগেই জয়োল্লাসে মাততে পারত আশরাফ হাকিমির দল।
টাইব্রেকারে ডাচদের হয়ে প্রথম শটে গোল করেন টিউন কুপমেইনার্স। পরের দুটি শটে মিস করেন মরক্কোর নেইল এল আয়নাউয়ি এবং ডাচ ফরোয়ার্ড জাস্টিন ক্লাইভার্ট। সুফিয়ান রাহিমি সমতায় ফেরান মরক্কোকে। তৃতীয় শটে ডাচদের হয়ে ভাউট ভেগহোর্স্ট এবং মরক্কোর হয়ে শেমসদিন তালবি গোল করেন। এরপর ডাচদের কুইন্টেন টিম্বার্স শট বাইরে মারেন এবং মরক্কোর অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিও পোস্টে মেরে শট মিস করে নাটকীয়তা বাড়ান। তবে গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো ডাচদের সামারভিলের শট ঠেকিয়ে দেওয়ার পর মরক্কোর ইসমায়েল সাইবারি নিজেদের পঞ্চম শটে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
পুরো ম্যাচজুড়েই মরক্কোর একচেটিয়া আধিপত্য ছিল। ৬৮ শতাংশ বল পজেশনের পাশাপাশি তাদের ১১টি শটের ৫টিই লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে ডাচরা ৬টি শটের মাত্র দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। এই রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে আগামী ৪ জুলাই রাউন্ড অব সিক্সটিনে কানাডার মুখোমুখি হবে মরক্কো। আর প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ নিয়ে ডাচদের অপেক্ষা করতে হবে ২০৩০ আসর পর্যন্ত।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




