আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানের আক্রমণাত্মক ও বিধ্বংসী ড্রোন মোকাবিলায় মার্কিন যুদ্ধাস্ত্র প্রস্তুতকারী কোম্পানি ‘অ্যান্ডুরিল’ থেকে ১৯৮ কোটি ডলারের উন্নত ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ কিনছে কুয়েত। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এই সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
গতকাল শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “প্রস্তাবিত এই বিক্রয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তানীতির সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নতি এবং ন্যাটো জোটের বাইরে আমাদের একজন বৃহৎ মিত্রের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিক্রয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশ কুয়েতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ৮টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি বিমান বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২টি প্রধান বিমান ঘাঁটি এবং বাকিগুলো যৌথ সামরিক ও লজিস্টিক ক্যাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রসঙ্গত, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৪০ দিন সংঘাতের পর গত ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এই অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যের যে কয়েকটি দেশে ইরান সবচেয়ে বেশি হামলা চালিয়েছে, তার মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কুয়েত। যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কুয়েতের সেনাবাহিনীর ২ জন সদস্যসহ মোট ৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশটির কয়েক কোটি ডলারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।
গত বুধবারও কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন নিক্ষেপ করে ইরান। ওই হামলায় দেশটিতে ১ জন নিহত এবং আরও ৬৩ জন আহত হন। সর্বশেষ আজ ভোরেও কুয়েতকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে আইআরজিসি। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সেই ক্ষেপণাস্ত্র আকাশে থাকা অবস্থাতেই আটকে দিয়ে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






