আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আল জাজিরার ক্যামেরাপারসন আহমেদ উইশাহ ও এক শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও উদ্ধারকর্মীরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরের একটি বাড়িতে চালানো এই হামলায় আহমেদ উইশাহ নিহত হন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ ঘটনাকে ‘জঘন্য অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, আহমেদ উইশাহকে হত্যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিক নীতিরই অংশ। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দাবি করেছে, উইশাহ হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং স্নাইপার হিসেবে কাজ করতেন। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি তারা।
বুরেইজ শিবিরের ওই হামলায় উইশাহসহ আরও দুজন নিহত হন, যাদেরকেও হামাস সদস্য বলে দাবি করেছে আইডিএফ। উল্লেখ্য, আহমেদ উইশাহর ভাই এবং আল জাজিরার আরেক সংবাদকর্মী মোহাম্মদ উইশাহ গত এপ্রিলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তখনও আইডিএফ তাকে হামাসের অস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিল।
এদিকে, গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১,০০৭ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, গাজার সাবরা এলাকায় রাতভর চালানো আরেক হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের স্বজন এবং স্থানীয় হাসপাতালের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশু রয়েছে। নিহত পরিবারের স্বজন নায়েল সাফাদি বলেন, “তাদের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তারা নিরীহ মানুষ, শুধু শিশু।” আরেক স্বজন মোহাম্মদ সাফাদি আক্ষেপ করে বলেন, “এটাই কি যুদ্ধবিরতি? আমরা সাধারণ মানুষ। আমি কখনও অস্ত্র হাতে নিইনি।”
এছাড়া গাজার উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েলি বাহিনীর আরও কয়েকটি হামলার খবর পাওয়া গেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






