লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ডায়েটের দুনিয়ায় কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা নিয়ে অনেকের মাঝেই নানা ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই একে ওজন বাড়ার কারণ বা ‘শত্রু’ ভেবে খাদ্যতালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে দেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্বোহাইড্রেট সহজাতভাবে খারাপ নয়; বরং এটি আমাদের শরীরের শক্তির প্রধান উৎস। সুস্থতা এবং ফিটনেস অনেকটাই নির্ভর করে আপনি কী ধরনের কার্বোহাইড্রেট খাচ্ছেন এবং দিনের কোন সময়ে তা গ্রহণ করছেন তার ওপর।
কার্বোহাইড্রেট শরীরকে গ্লুকোজ সরবরাহ করে, যা মস্তিষ্ক, পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রকে সচল রাখার প্রধান জ্বালানি। এটি ডায়েট থেকে পুরোপুরি বাদ দিলে শরীরে তীব্র ক্লান্তি ও শক্তির অভাব দেখা দেয়। তাই চিনিযুক্ত বা অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের বদলে আস্ত শস্য, ফল, শাকসবজি ও ডাল খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা।
সব ধরনের কার্বোহাইড্রেট সমান পুষ্টিগুণ বহন করে না। পরিশোধিত শর্করা ও অতিরিক্ত চিনি মূলত ‘খালি ক্যালরি’ দেয়। অন্যদিকে হোল গ্রেইন (পূর্ণ শস্য) জাতীয় খাবার থেকে প্রচুর ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ পাওয়া যায়, যা দীর্ঘমেয়াদি সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
দিনের বেলায় আমাদের শরীর বেশি ইনসুলিন-সংবেদনশীল থাকে, যার ফলে গ্লুকোজ দ্রুত প্রক্রিয়াজাত হয়। তাই সকালের নাশতা বা দুপুরের খাবারে কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ করা ভালো, যা রক্তে শর্করার মাত্রা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সন্ধ্যা বা রাতে বিপাক ধীর হয়ে যায় বলে তখন শর্করা জাতীয় খাবার খেলে তা চর্বি হিসেবে জমা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে এবং শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে পরিমিত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি (ফ্যাট) যুক্ত করা উচিত। সামগ্রিক সুস্থতার জন্য খাদ্যের মানের পাশাপাশি শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং দৈনন্দিন ক্যালরির ভারসাম্যের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






