বাংলাফ্লো প্রতিবেদক ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার মিরপুরের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ ও কাফরুল রোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। আন্দোলনের নামে যারা দেশকে অস্থিতিশীল করা, জনদুর্ভোগ সৃষ্টি, সড়ক অবরোধ, গাড়ি ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ নষ্ট করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রসঙ্গে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অভিযান চলমান থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা সম্ভব নয়। তবে আটকের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সরাসরি তদারকিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে না, সেইসব নিরীহ শ্রমিক ও পথচারীদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
মিরপুরের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, বুধবার শ্রমিকদের সড়কে নামার সুযোগ হয়নি। অনেক পোশাক কারখানার শ্রমিকরা নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরেছেন এবং উৎপাদন পুরোদমে চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিবি এবং সিটিটিসি যৌথভাবে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
সহিংসতায় জড়িতদের কড়া বার্তা দিয়ে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, শ্রমিকদের বেতন সমন্বয়ে ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং সুবিধা বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। প্রকৃত শ্রমিকরা কখনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়ান না। মূলত তৈরি পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে একটি স্বার্থান্বেষী মহল নেপথ্যে থেকে উসকানি দিচ্ছে। কারখানায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ কিংবা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












