লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: গরম ভাতে এক চামচ গাওয়া ঘি কিংবা পোলাও-বিরিয়ানিতে ঘিয়ের ব্যবহার খাবারের স্বাদ ও গন্ধ মুহূর্তেই বদলে দেয়। কিন্তু সুস্বাদু এই খাবারের আড়ালে আপনি কি অজান্তেই বিষ খাচ্ছেন? বাজারে চকচকে মোড়কে বিক্রি হওয়া ঘি আসলে কতটা খাঁটি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খান ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (ডায়মন্ড ঘি)-এর স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম খান।
সাইফুল ইসলাম খান জানান, “অসাধু ব্যবসায়ীরা এক কেজি ঘিতে ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত ডালডা ও পাম অয়েল মিশিয়ে মাত্র ২০০ গ্রাম ঘি দিয়ে তা বিক্রি করছে। খাঁটি ঘি শরীর সুস্থ রাখে, কিন্তু ভেজাল ঘি খেলে শরীরে কেবল ক্ষতিকর কোলেস্টেরল আর ট্রান্স ফ্যাট বাড়ে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে।”
ভেজাল ঘি খেয়ে প্রতারিত হওয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ঘরে বসেই খুব সহজে যাচাই করতে পারেন ঘিয়ের বিশুদ্ধতা। জেনে নিন ৭টি পরীক্ষিত পদ্ধতি:
১. হাতের তালুতে পরীক্ষা: হাতের তালুতে এক চামচ ঘি নিয়ে ঘষুন।
খাঁটি: শরীরের তাপে ১০-১৫ সেকেন্ডের মধ্যে গলে যাবে এবং হাত মসৃণ লাগবে। গন্ধ হবে মিষ্টি।
ভেজাল: গলতে সময় নেবে, চটচটে তৈলাক্ত ভাব থাকবে এবং গন্ধ দ্রুত উবে যাবে।
২. ফ্রিজ পদ্ধতি: ঘি গলিয়ে একটি কাচের বোতলে ভরে ফ্রিজে রাখুন।
খাঁটি: পুরো ঘি একসঙ্গে জমাট বেঁধে একটি সুষম লেয়ার তৈরি করবে।
ভেজাল: ডালডা ও পাম তেল আলাদা আলাদা লেয়ার বা স্তর হয়ে জমবে।
৩. আগুনের তাপ: প্যানে এক চামচ ঘি গরম করুন।
খাঁটি: দ্রুত গলে পরিষ্কার তরল হয়ে যাবে। রঙ হবে হালকা বাদামি এবং ফেনা খুব কম হবে।
ভেজাল: গলতে দেরি হবে, ঘোলাটে দেখাবে এবং প্রচুর ফেনা সৃষ্টি হবে।
৪. পানি পরীক্ষা: এক গ্লাস পানিতে এক চামচ ঘি দিন।
খাঁটি: পানির ওপরে ভেসে থাকবে।
ভেজাল: পানির সঙ্গে দ্রুত মিশে যাবে অথবা তলায় ডুবে যাবে।
৫. আয়োডিন টেস্ট: ঘিতে দু-তিন ফোঁটা আয়োডিন টিংচার মেশান।
খাঁটি: রঙের কোনো পরিবর্তন হবে না।
ভেজাল: স্টার্চ বা ময়দা মেশানো থাকলে রঙ নীল বা বেগুনি হয়ে যাবে।
৬. সাদা কাগজ পদ্ধতি: সাদা কাগজে এক ফোঁটা ঘি ফেলুন।
খাঁটি: কাগজ ঘি শুষে নেবে কিন্তু কোনো স্থায়ী দাগ থাকবে না।
ভেজাল: কাগজে দীর্ঘস্থায়ী দাগ থেকে যাবে।
৭. গন্ধ ও স্বাদ: খাঁটি ঘিতে মিষ্টি দুধের গন্ধ থাকে এবং স্বাদে হালকা বাদামি ভাব আসে। এটি মুখে লেগে থাকে না। অন্যদিকে, ভেজাল ঘিতে রাসায়নিক বা কড়া তেলের গন্ধ থাকে এবং ডালডার মতো মুখে লেগে থাকে।
কেনার সময় খেয়াল রাখবেন, খাঁটি ঘি সাধারণত দানাযুক্ত (দানাদার) হয় এবং রঙ সোনালি হলুদ বা সাদা (দুধের ওপর ভিত্তি করে) হয়। অতিরিক্ত মসৃণ ও অস্বাভাবিক কম দামের ঘি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






