বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: ‘পিংক’ সিনেমার সেই সাহসী মেয়েটি থেকে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর ‘ফোর মোর শটস প্লিজ’-এর অঞ্জনা মেনন—বলিউড অভিনেত্রী কীর্তি কুলহারি নিজেকে প্রমাণ করেছেন বারবার। জনপ্রিয় সিরিজ ‘ফোর মোর শটস প্লিজ’-এর চতুর্থ ও শেষ মৌসুম নিয়ে দর্শকদের সামনে আসতে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি ফিল্মফেয়ার সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিরিজ, নিজের নতুন সিনেমা ‘ফুল প্লেট’ এবং ব্যক্তিজীবনের নানা দর্শন নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন কীর্তি।
‘ফোর মোর শটস প্লিজ’-এর বিদায়ী ঘণ্টা: জনপ্রিয় এই সিরিজের চতুর্থ মৌসুম নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত কীর্তি। তিনি বলেন, “তিন মৌসুমের পর একটা চরিত্রে ক্লান্তি আসতেই পারে, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে তা হয়নি। আমি প্রথম মৌসুমের মতোই সতেজ মন নিয়ে কাজ করেছি।” তিনি আশ্বাস দেন, শেষ মৌসুমেও আনন্দ ও মজার কমতি থাকবে না, তবে চরিত্রগুলো এবার ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনের দিকে নতুন দৃষ্টিতে তাকাবে।
গ্ল্যামার ভেঙে ‘রাঁধুনি’র চরিত্রে: তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি পরিচালিত ‘ফুল প্লেট’ সিনেমায় কীর্তিকে দেখা যাবে এক গৃহবধূর চরিত্রে, যিনি স্বামীর দুর্ঘটনার পর সংসার চালাতে অন্যের বাড়িতে রাঁধুনির কাজ নেন। বুসান ও সিডনি চলচ্চিত্র উৎসবে প্রশংসিত এই ছবিটি এখন ধর্মশালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হচ্ছে। গ্ল্যামারাস ইমেজ ভেঙে এমন চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে কীর্তি বলেন, “সাধারণত মানুষ আমাকে এ ধরনের চরিত্রে কল্পনা করেন না। কিন্তু তন্নিষ্ঠা বিশ্বাস করেছিলেন আমি পারব। তাঁর সেই বিশ্বাসটাই আমাকে টেনেছে।”
ক্যানসারজয়ী নির্মাতার অদম্য সাহস: সাক্ষাৎকারে উঠে আসে এক হৃদয়বিদারক অথচ অনুপ্রেরণাদায়ক তথ্য। ‘ফুল প্লেট’র পরিচালক তন্নিষ্ঠা চ্যাটার্জি স্টেজ-৪ ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন। কীর্তি জানান, ছবির কাজ শুরুর ঠিক আগে তন্নিষ্ঠা বাবাকে হারিয়েছিলেন। কিন্তু এত বড় ব্যক্তিগত শোক আর নিজের মারণব্যাধির সঙ্গে লড়াই করেও তিনি এক মুহূর্তের জন্য কাজের মনোযোগ হারাননি। কীর্তি বলেন, “এত কষ্টের মধ্যেও কাজের প্রতি তাঁর নিবেদন আমাকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।”
জীবনের নতুন পাঠ ও অদ্ভুত প্রশংসা: সময়ের সঙ্গে নিজের জীবনদর্শন বদলেছেন কীর্তি। আগে তিনি শুধু হৃদয় দিয়ে কাজ করতেন, এখন তিনি হৃদয় ও বাস্তবতার ভারসাম্য বজায় রেখে চলেন। নিজের অভিনয় নিয়ে পাওয়া সেরা প্রশংসা সম্পর্কে তিনি বলেন, “অনেকে বলেন, পর্দায় কান্নার সময় আমাকে সুন্দর দেখায়। এটি আমি সত্যিকারের প্রশংসা হিসেবে নিই। কারণ কাঁদতে কাঁদতে সুন্দর দেখানো সবার পক্ষে সম্ভব হয় না।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






