বিনোদন ডেস্ক
ঢাকা: বৃষ্টি ছিল তার দারুণ প্রিয়। বৃষ্টি-বন্দনা করেছেন বহুবার, বহুভাবে। হয়তো তাই, ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন এমনই বৃষ্টির দিনে, ঘন বর্ষার মৌসুমে। আজ সেই বৃষ্টিবিলাসী নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণ দিবস। ২০১২ সালের আজকের দিনে (১৯ জুলাই) তিনি চলে গেছেন অনন্তলোকে।
নিজের লেখা গানেই তিনি বলেছেন, ‘যদি মন কাঁদে, তুমি চলে এসো এক বরষায়’। সে গানের মতো তিনিও কি ফিরে আসেন এই বর্ষার দিনে তার প্রিয় নুহাশ পল্লীতে কিংবা ধানমন্ডির দখিন হাওয়ায়? হয়তো আসেন, সবার অলক্ষ্যে।
প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ আয়োজন
নন্দিত এই লেখকের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে থাকছে নানা আয়োজন:
তৃতীয় মাত্রা: আজ রোববার প্রথম প্রহরে (রাত ১টা) এবং সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে প্রচারিত হয়েছে বিশেষ পর্ব। ফরিদুর রেজা সাগরের উপস্থাপনায় এতে অংশ নিয়েছেন কবি হাসান হাফিজ, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম এবং অভিনেতা ডা. এজাজুল ইসলাম।
গান দিয়ে শুরু: সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে প্রচারিত হয়েছে এই বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান।
চলচ্চিত্র সম্প্রচার: দুপুর ৩টা ৫ মিনিটে দেখানো হবে হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের চলচ্চিত্র ‘নন্দিত নরকে’।
সাহিত্যকর্ম ও কালজয়ী চরিত্র
১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনায় জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন শাস্ত্রে অধ্যাপনা করেন তিনি।
স্বাধীনতার পরের বছর প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ দিয়েই লেখক হিসেবে অভাবনীয় পরিচিতি পান। এরপর ‘শঙ্খনীল কারাগার’ দিয়ে সাহিত্যে নিজের অবস্থান পাকা করেন। তার অন্যান্য জনপ্রিয় উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘মধ্যাহ্ন’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘দেয়াল’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ইত্যাদি। তার সৃষ্ট হিমু, মিসির আলি, রূপা, শুভ্রসহ বিভিন্ন চরিত্র একাধিক প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
নির্মাণে ঈর্ষণীয় সাফল্য
লেখালেখির বাইরে চলচ্চিত্র ও নাটক নির্মাণেও হুমায়ূন আহমেদের সাফল্য ছিল আকাশচুম্বী।
জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক: ‘এইসব দিনরাত্রি’, ‘বহুব্রীহি’, ‘অয়োময়’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘আজ রবিবার’।
পরিচালিত খণ্ড নাটক: ‘নক্ষত্রের রাত’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’, ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’, ‘তারা তিন জন’, ‘মন্ত্রী মহোদয়ের আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম’ ইত্যাদি।
চলচ্চিত্র: ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’, ‘আমার আছে জল’ ও ‘ঘেটুপুত্র কমলা’।
স্বীকৃতি ও সম্মাননা
সাহিত্য রচনার স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার এবং মাইকেল মধুসূদন পদকসহ নানা সম্মাননা লাভ করেন। ১৯৯৪ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন। এছাড়া চলচ্চিত্রের বিভিন্ন বিভাগে আটবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন কালজয়ী এই ব্যক্তিত্ব।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












