বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: ‘জুলাইয়ের চেতনা বিক্রি করে দীর্ঘদিন রাজনীতি করা যাবে না। যারা নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলছেন, তাদের উচিত জনগণের সামনে সেই রূপরেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা’—বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত ‘রক্তস্নাত জুলাই: প্রেক্ষাপট, রক্তের ঋণ এবং কোন পথে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতভেদ ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কেবল স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করবে। আমরা আর কখনো চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। মব জাস্টিসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এটি একটি অপকালচার; মব কোনো দিন জাস্টিস হতে পারে না। আইনের শাসন কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হওয়ায় এই মব কালচারের সৃষ্টি হয়েছিল।
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে বিচারকদের জবাবদিহির আওতায় আনা সমীচীন হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে বিচার বিভাগের হাত ধরেই। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে তখনই তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যৌক্তিক হবে। এছাড়া রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এর বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে গণভোট হওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কিছু কমিশনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট কাজ ছাড়া শুধু কিছু ব্যক্তির কর্মসংস্থানের জন্য এসব কমিশন করা হয়েছিল।
নতুন আইনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার আগামী সংসদ অধিবেশনে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘গুম প্রতিরোধ আইন’ আনতে যাচ্ছে, যেখানে গুমের বিভিন্ন স্তর, সাজা এবং বিচারিক এখতিয়ার সুনির্দিষ্ট করা থাকবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের আইনকেও যুগোপযোগী করা হবে। তবে মানবাধিকার আইনের ক্ষেত্রে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ কঠোরভাবে বিবেচনা করা হবে, যাতে এলজিবিটিকিউ-এর মতো সমাজ-স্বীকৃত নয় এমন বিষয় দেশের ওপর চাপিয়ে দেওয়া না হয়।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন প্রমুখ।
বাংলাফ্লো/এফআইআর












