আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলা ও শীর্ষ নেতাদের হারানোর চরম বিপর্যয় কাটিয়ে নতুন কৌশলে আবারও ঘুরে দাঁড়াচ্ছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গত সেপ্টেম্বরে হিজবুল্লাহ সদর দপ্তরে ইসরায়েলের ৮০টি বোমা হামলা এবং পেজার ও ওয়াকিটকিতে বিস্ফোরণের পর অনেকেই দলটির অস্তিত্ব নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তবে সেই ধ্বংসস্তূপ থেকেই ইমাদ মুগনিয়াহর গেরিলা কৌশল এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নতুনভাবে সংগঠিত হচ্ছে দলটি।
জানা গেছে, হামলার পর নজরদারি এড়াতে বেঁচে থাকা হিজবুল্লাহ কমান্ডারেরা সব ধরনের ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বন্ধ করে দেন। তারা ছোট ছোট স্বাধীন ইউনিটে বিভক্ত হয়ে সাধারণ জায়গায় সামনাসামনি দেখা করে যুদ্ধের পরিকল্পনা সাজান। সামরিক কাঠামোর এই বিকেন্দ্রীকরণের ফলে কেন্দ্রীয় নির্দেশ ছাড়াই ইউনিটগুলো স্বাধীনভাবে লড়াই বা পিছু হঠার সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। এছাড়া ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর হামলায় সিগন্যাল জ্যামিং এড়াতে ফাইবার-অপটিক নিয়ন্ত্রিত ফার্স্ট-পারসন ভিউ (এফপিভি) ড্রোন ব্যবহার করছে গোষ্ঠীটি। আর নিখুঁতভাবে এই ড্রোনগুলো পরিচালনার জন্য লেবাননের তরুণ ভিডিও গেমারদের কাজে লাগানো হচ্ছে।
সংগঠনের নেতৃত্বেও এসেছে পরিবর্তন। হাসান নাসরুল্লাহ ও হাশেম সাফিউদ্দিনের মৃত্যুর পর নাঈম কাসেম দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে দলকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন। লজিস্টিক জটিলতায় মাঠপর্যায়ে ইরানি উপদেষ্টাদের উপস্থিতি আগের চেয়ে কমলেও, দুই পক্ষের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় আগের মতোই দৃঢ় রয়েছে।
তবে টানা সংঘাত ও বিপুলসংখ্যক যোদ্ধা হারানোর পর হিজবুল্লাহর লক্ষ্য ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় বদল এসেছে। বর্তমানে তাদের প্রধান লক্ষ্য জেরুজালেম দখল নয়, বরং লেবাননকে রক্ষা করা। এমনকি দলের ভেতরে এখন সশস্ত্র আন্দোলন থেকে বেরিয়ে শুধু রাজনৈতিক দলে রূপ নেওয়া বা নিরস্ত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












