তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) এখন আর কল্পবিজ্ঞানের কোনো রূপকথা নয়, বরং মানুষের প্রাত্যহিক কর্মজীবন ও শিক্ষার অন্যতম মূল হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শীর্ষ প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকাশিত যৌথ সমীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে সক্রিয় জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর মোট সংখ্যা ইতিমধ্যে রেকর্ড ২৪ কোটি (২৪০ মিলিয়ন) অতিক্রম করেছে। চ্যাটজিপিটির জনক ওপেনএআই এবং ক্লড এআইয়ের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের যুগান্তকারী উদ্ভাবন ও নিত্যনতুন ফিচার এই রেকর্ড প্রবৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাত্র কয়েক বছর আগেও সাধারণ মানুষের কাছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের পরিধি সীমিত ছিল। তবে আধুনিক লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলোর (এলএলএম) অভূতপূর্ব বিকাশ, মাল্টিমোডাল ভয়েস ও ইমেজ প্রসেসিং ক্ষমতা এবং নির্ভুল কোডিং দক্ষতার ফলে মানুষ এখন দাপ্তরিক ইমেইল লেখা, গ্রাফিক ডিজাইন, জটিল ডেটা অ্যানালাইসিস, প্রোগ্রামিং এবং চিকিৎসা গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে সরাসরি এআইয়ের ওপর নির্ভর করছে। বিশ্বের শীর্ষ ৫০০টি বহুজাতিক ফরচুন কোম্পানির প্রায় ৮৫ শতাংশই ইতিমধ্যে তাদের কার্যক্রমে কোনো না কোনো এআই টুলসকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত করেছে।
ওপেনএআই তাদের নতুন ও শক্তিশালী রিজনিং মডেলগুলো বাজারে আনার পর কর্পোরেট সেক্টরে এর জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে অ্যানথ্রপিকের উদ্ভাবিত ‘ক্লড’ নিরাপত্তা, যৌক্তিক বিশ্লেষণ ও নৈতিক সুরক্ষার মানদণ্ডে প্রযুক্তি বিশ্বে এক বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্টরাও তাদের নিজস্ব সার্চ ইঞ্জিন ও অপারেটিং সিস্টেমে জেনারেটিভ এআইকে সরাসরি ইন্টিগ্রেট করায় সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যেও এআই গ্রহণের হার বিদ্যুৎগতিতে বাড়ছে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, জেনারেটিভ এআই কেবল ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়িয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না; বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলারের নতুন সম্ভাবনা ও কর্মদক্ষতা তৈরি করছে। তবে এআইয়ের এই দ্রুতগতির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে কপিরাইট লঙ্ঘন, ডিপফেক ভিডিওর অপব্যবহার এবং শ্রমবাজারে কিছু গতানুগতিক কাজের ঝুঁকির মতো নৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোও সমানভাবে সামনে আসছে, যার জন্য আন্তর্জাতিক আইনি নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রণয়ন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ












