লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: মাছে-ভাতে বাঙালি হিসেবে ভাত আমাদের প্রতিদিনের প্রধান খাদ্য। তবে আধুনিক যুগে অটো রাইস মিলের চকচকে পলিশ করা সাদা চালের ভাত খেতে গিয়ে আমরা অজান্তেই ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, ওবেসিটি এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো নীরব ঘাতক ব্যাধিগুলোকে শরীরে ডেকে আনছি। অন্যদিকে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ও চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত পরামর্শ দিচ্ছেন ঐতিহ্যবাহী লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চালের ভাত খাওয়ার। পুষ্টিগুণ, গ্লাইসেমিক ইনডেক্স এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বিচারে সাদা চাল ও লাল চালের তুলনামূলক স্বাস্থ্য প্রভাব বিশ্লেষণ করেছেন শীর্ষ পুষ্টিবিজ্ঞানীরা।
পুষ্টিবিদদের মতে, সাদা চাল মূলত অত্যন্ত প্রক্রিয়াজাত ও পলিশড শস্যদানা। চালকে চকচকে ও সাদা করতে গিয়ে এর সবচেয়ে পুষ্টিকর অংশ—ব্র্যান (কুঁড়া) এবং জার্ম (ভ্রূণ) সম্পূর্ণ ছেঁটে ফেলা হয়। ফলে সাদা চালে শুধুমাত্র স্টার্চ বা শর্করা অবশিষ্ট থাকে এবং এর ফাইবার ও ভিটামিন শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। সাদা চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) অত্যন্ত উচ্চ (প্রায় ৭০-৭৫), যার অর্থ এই চালের ভাত খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রক্তে শর্করার মাত্রা ও ইনসুলিন স্পাইক আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চরম ক্ষতিকর।
বিপরীতে লাল চালে ব্র্যানের স্তরটি সম্পূর্ণ অক্ষত থাকে। এই ব্র্যান স্তরেই থাকে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষ করে ‘অ্যান্থোসায়ানিন’, যা চালকে লালচে রঙ দেয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে জাদুকরী ভূমিকা রাখে। লাল চাল প্রচুর ডায়েটারি ফাইবার, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন এবং জিঙ্কে ভরপুর। এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলকভাবে বেশ কম (প্রায় ৫৫-৫৬), যার কারণে লাল চালের ভাত খেলে রক্তে ধীরে ধীরে গ্লুকোজ প্রবেশ করে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণেও অসাধারণ সহায়ক।
হৃদরোগের ক্ষেত্রেও লাল চালের ম্যাগনেসিয়াম রক্তনালীকে শিথিল রেখে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে সাহায্য করে। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস বা মেটাবলিক সিন্ড্রোমে ভুগছেন, তাদের সাদা চালের লোভ ত্যাগ করে ধাপে ধাপে লাল চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এতে দীর্ঘমেয়াদে ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সুস্থ ও নীরোগ জীবনযাপন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাফ্লো/এম এইচ এইচ











